ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিয়েতনামের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু: শেখ হাসিনাসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা মেঘ হয়ে ঝরে পড়ার আকুতি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে শঙ্কা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রোমহর্ষক সাক্ষ্য সাবেক সেনা কর্মকর্তার চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের গ্রীষ্মে রেকর্ড যাত্রী পরিবহন এমিরেটসের, শীতের বুকিংয়েও জোর সম্ভাবনা জাতিসংঘ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র শ্রীরামপুরে জনসভার অনুমতি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনা নিয়ে যত বিতর্ক

  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে আরও নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশীয় এভিয়েশন খাতে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে আনছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান। এর মধ্যে ১০টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান রয়েছে। এই ক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। বোয়িংয়ের বাইরে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি বিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও মডেল রয়েছে।

বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মুখে এমন বিপুল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও নতুন ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থার দ্বারস্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ব্যয় নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী পরিবহন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারে, তাই বহর বাড়ানো অপরিহার্য। তবে বড় বহর পরিচালনার ক্ষেত্রে সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আগে অর্ডার করলে সাশ্রয়ী মূল্যে উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব, কিন্তু শুধু বিমান কিনলেই হবে না। পর্যাপ্ত পাইলট, দক্ষ প্রকৌশলী, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও উন্নত বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে নতুন উড়োজাহাজগুলো রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, নিছক উড়োজাহাজ বৃদ্ধি নয়, বরং বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল থাকা প্রয়োজন। যথাযথ পরিকল্পনা ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে তবেই এই বিশাল বিনিয়োগ থেকে লাভবান হওয়া সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনা নিয়ে যত বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে আরও নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশীয় এভিয়েশন খাতে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে আনছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান। এর মধ্যে ১০টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের বিমান রয়েছে। এই ক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। বোয়িংয়ের বাইরে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি বিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও মডেল রয়েছে।

বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মুখে এমন বিপুল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও নতুন ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থার দ্বারস্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ব্যয় নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী পরিবহন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারে, তাই বহর বাড়ানো অপরিহার্য। তবে বড় বহর পরিচালনার ক্ষেত্রে সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আগে অর্ডার করলে সাশ্রয়ী মূল্যে উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব, কিন্তু শুধু বিমান কিনলেই হবে না। পর্যাপ্ত পাইলট, দক্ষ প্রকৌশলী, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও উন্নত বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে নতুন উড়োজাহাজগুলো রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, নিছক উড়োজাহাজ বৃদ্ধি নয়, বরং বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল থাকা প্রয়োজন। যথাযথ পরিকল্পনা ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে তবেই এই বিশাল বিনিয়োগ থেকে লাভবান হওয়া সম্ভব।