বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনার সিদ্ধান্ত, নেপথ্যে কী?
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই উড়োজাহাজগুলোর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং এর পেছনে থাকা বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক কারণ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে বোয়িংয়ের আরও নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যদিও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সব ধরনের চাপের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, কেবল দেশের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই সরকার এই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সেই চুক্তির আওতায় ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ কেনার কথা ছিল। এই ১৪টি উড়োজাহাজের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এদিকে বোয়িংয়ের বাইরে ইউরোপের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যার মধ্যে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে।
বর্তমানে যখন বাংলাদেশ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছে, তখন এমন বিশাল অংকের বিনিয়োগ নিয়ে সমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি শুধু ব্যয়বহুল নয়, এটি পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও যথেষ্ট শঙ্কার অবকাশ রয়েছে। সরকারের ভাষ্যমতে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি বড় আকারের উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, আগে অর্ডার দিলে উড়োজাহাজ কিছুটা কম দামে পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত পাইলট, দক্ষ প্রকৌশলী এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই মত পোষণ করে বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, কেবল উড়োজাহাজ বাড়ালেই হবে না, এর পাশাপাশি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বর্তমানে বছরে এক কোটি যাত্রী পরিবহনের মাইলফলক স্পর্শ করা বাংলাদেশের বিমান খাত সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


























