কাগজে-কলমে মুনাফা দেখালেও বেবিচকের কাছে বিমানের বকেয়া প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ১০:৩১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও মুনাফার হিসাব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একদিকে সংস্থাটি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে তাদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বেবিচকের অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জের মূল বকেয়ার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সারচার্জ যুক্ত হয়ে এই বিশাল অংকের সৃষ্টি হয়েছে।
বকেয়ার সিংহভাগই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাওনা, যার পরিমাণ ৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৭৮১ কোটি এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬০৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তালিকার বাকি বকেয়া যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের। এই মোট বকেয়ার মধ্যে ৫১২ কোটি টাকা ভ্যাট এবং ৫৩ লাখ টাকা আয়কর বাবদ পাওনা রয়েছে। বেবিচক মূলত ল্যান্ডিং, রুট নেভিগেশন, বোর্ডিং ব্রিজ, এমবারকেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও চেক-ইন কাউন্টারসহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে এসব চার্জ আদায় করে থাকে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে বেবিচকের দ্বিমুখী নীতি পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর হলেও রাষ্ট্রীয় বিমানের প্রতি শিথিলতা কাম্য নয়। তিনি বেবিচক ও বিমানকে আলোচনায় বসে সারচার্জ ও মূল পাওনা সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধানের আহ্বান জানান। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।
এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আয় এবং ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা প্রদর্শন করেছে, যা আগের অর্থবছরের ২৮২ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। তবে বেবিচকের পাশাপাশি পদ্মা অয়েলের কাছেও বিমানের বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহকারী এই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমানের পাওনা ছিল ১ হাজার ২৭৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতীতে বকেয়া ও সারচার্জ মওকুফের সুযোগ থাকলেও এবার তা নেই। বর্তমানে বিমান কিস্তিতে পরিশোধের চেষ্টা করলেও, বর্তমান গতিতে পদ্মা অয়েলের পুরোনো বকেয়া পরিশোধ করতেই ১৫ থেকে ১৬ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
























