শিক্ষিকা রনজিলা মৃত্যুর ঘটনা: আসল দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে দীর্ঘ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই দুইজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযানের সময় ভুক্তভোগীর ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন স্বীকার করেছে যে, ঘটনার সময় সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিল এবং শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিহত শিক্ষিকার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাগের ভেতর ভুক্তভোগীর পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায়। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক রাজিবকে বিরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই, চুরি ও মারামারি মিলিয়ে মোট ৮টি মামলা রয়েছে, অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত ৩টি মামলা অতীতে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
এর আগে, গত ৩০শে আগস্ট র্যাব-২ মো. মোশারফ হোসেন পনিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার দাবি করেছিল। র্যাব জানিয়েছিল যে, পনি ও তার সহযোগীরা এই ছিনতাইয়ে জড়িত এবং তারা ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে। তবে ডিবি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, র্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃতরা এই নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নয়। ডিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটিও ঘটনার সময় ব্যবহৃত হয়নি। এছাড়া র্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, তার মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিনে সেটি পনি গাজীর হেফাজতে থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পনি গাজী একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ডাকাতি, মাদক ও চুরি সংক্রান্ত ১৩টি মামলা রয়েছে।
মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো অপরাধের পর সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা তদন্তের একটি অংশ মাত্র। তবে তদন্তের দ্বিতীয় ধাপে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক গ্রেপ্তারের সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকায় তাদেরই জড়িত বলে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু বিশদ তদন্তে তা ভুল প্রমাণিত হয়। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে, গত ২৯শে আগস্ট সকালে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামীর সঙ্গে রিকশাযোগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেরেবাংলা নগর এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে ১২নং গেইট পার হয়ে খেজুর বাগান অভিমুখী রাস্তায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা তাদের পিছু নেয়। খেজুর বাগানের সামনে পৌঁছামাত্রই খোকন চলন্ত রিকশায় থাকা শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে সজোরে টান দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এর আগে এ ঘটনায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছিল র্যাব (বর্তমান এসআরবি)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ‘ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত’ একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল সংস্থাটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ডিবি বলছে, আগের গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এ ঘটনায় জড়িত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদ্ধারকৃত সেই মোটরসাইকেলটিও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে খোকনকে মিরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
























