যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি গত আগস্ট মাসে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই মাসে এই পরিমাণ ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া অর্থবছরের প্রথম দুই মাস তথা জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির গতি বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রথম দুই মাসে মাসিক গড় রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ের মাসিক গড় ছিল ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বর্তমান রপ্তানি ধারা আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে উল্লেখ করে পণ্যের বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও রপ্তানি প্রসারের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারের মোট পণ্য রপ্তানি আয় এসেছিল, যার মধ্যে তৈরি পোশাক থেকে এসেছে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার। অবশিষ্ট ১.৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো খাতগুলো থেকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব খাতকে রপ্তানি সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা মো. ফজলুল হক জানান, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের সময়সীমার কারণেই আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে রপ্তানি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও একই মত পোষণ করে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারি নীতি-সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই সুযোগটি আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাজারের বড় অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ। আগস্টের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার আশা জাগাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চলতি অর্থবছরের এই বাড়তি গতি মূলত আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মতে, সামনের মাসগুলোতে বাজারটিতে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা ও বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


























