চট্টগ্রামে ‘ডিজিটাল স্কেলে’ ওজনে কম দিয়ে ক্রেতা ঠকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
- আপডেট সময় : ০১:১৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মে ২০১৭
- / 352
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম শহরের সবকটি বাজারে ক্রেতা ঠকানোর মূল যন্ত্র এখন ডিজিটাল স্কেল। এমন কোনো স্কেল নেই যেখানে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম কম নেই। বিশেষ করে মাছ, মাংস, মুরগি, ও ফলের দোকানগুলোতে প্রতিনিয়ত ওজনে ঠকছে ক্রেতারা।
বিষয়টি ধরা পড়ে পণ্য ক্রয়ের পর বিশ্বস্থ কোনো দোকানে তা পুনরায় ওজন করার পর। এ নিয়ে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। আর বিশেষ কৌশলে ডিজিটাল স্কেলে কারচুরি মাধ্যমে মোটা অঙ্কেও মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, মাছ, মুরগি, মাংস, ফল ও তরিতরকারির দোকানগুলোতে ডিজিটাল স্কেলে ওজনে কম দেওয়ার সুযোগের মুল কারণ হচ্ছে, এসব ভোগ্যপণ্য ওজনের পর বিক্রেতা নিজেরাই তা জবাই করে কেটে-কুটে পরিষ্কার-করে দিচ্ছে। ফলে মুরগি ও মাছে ওজনে কম দেওয়ার বিষয়য়টি বুঝতেই পারছেন না ক্রেতারা।
একই অবস্থা গরু বা খাসীর মাংসের ক্ষেত্রেও। ওজন করার পর বিনে পয়সায় মাংস কুটে দিচ্ছে বিক্রেতারা। এ সুবাধে পঁচা-বাসী মাংসও মিশিয়ে দিচ্ছে। ফলের দোকান, তরিতরকারির দোকানের প্রতিটি মিটারেও ওজনে কারচুপি চলছে।
সম্প্রতি নগরীর বহদ্দারহাট মাছের বাজার থেকে আনোয়ারা বেগম নামে এক নারী মাছ কিনে তা একটি মুদির দোকানে যাচাই করে। এতে ১৮০ গ্রাম কম দেখে পুনরায় মাছ বিক্রেতার কাছে যান। তিনি ভুল স্বীকার করে আরও একটি মাছ দিয়ে ওই নারীকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু নাছোরবান্দা ওই নারী মিটারে মাছ মাপতে বলেন। এ সময় অতিরিক্তমাছ সহ ওজনে এক কেজি ১৫০ গ্রাম হয়। যা দেখে উপস্থিত অনেকে মিটারে কারচুপির কথা বলেন। ততক্ষনে পাশের মাছ বিক্রেতাদের কয়েকজন জোট হয়ে ক্রেতাদের ধমকাতে থাকেন। নিরুপায় ক্রেতারা ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল চুরি এ বলে বলে ক্ষোভ ঝরতে থাকেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর কাজীর দেউরি এলাকা থেকে চারটি ফার্মের মুরগি কিনেন আবদুর রহিম। যার ওজন ৭ কেজি ৮০০ গ্রাম হয়। ওই সময় ক্রেতা বলেন, জবাই করার দরকার নাই। আমি বাসায় নিয়ে যাব। কিন্তু বিক্রেতা তা জবাই ও পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য জোর করতে লাগলেন। বললেন পয়সা দিতে হবে না। শেষ পর্যন্ত ক্রেতা মুরগি নিয়ে তা অনত্র কোথাও মেপে এসে বললেন, এতে ৭ কেজিরও কম। শুরু হল বাড়াবাড়ি।
বিক্রেতার যুক্তি ওজনের পর একবার পায়খানা করলেও ১০০ গ্রাম কমে। সে হিসেবে ওজন কমতেই পারে। তাৎক্ষনিকভাবে মুদির দোকান থেকে কেনা এক কেজি ডাল তার মিটারে মাপতে দিল। যা এক কেজি ১২০ গ্রাম হয়। ক্রেতার প্রশ্ন মিটারে কারচুপি না থাকলে এক কেজির ডাল এক কেজি ১২০ গ্রাম হল কি করে। বাড়াবাড়ি তখন রুপ নেয় ঝগড়ায়। মুরগি বিক্রেতার সাব জবাব, যেন আছে হেন নিতে হইব। ভালা লাইগলে আইয়েন না লাইগলে ন আইয়েন।
মুরগি বিক্রেতা এ সময় বলেন, বাজারের সব মাল বিক্রেতার মিটারে একই মাপ। এর বাইরে আমরা যামু কেমনে।
এ ব্যাপারে কাজীর দেউরি বিছমিল্লাহ স্টোরের মুদির দোকানি কাজী আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের মিটারে কোন কারচুপি নেই। আমরা কম দিলেও তা বাইরে দেখার সুযোগ আছে। কিন্তু মাছের দোকান, মুরগির দোকান, তরকারির দোকান, ফলের দোকানের মতো ভাসমান দোকানগুলোতে তা যাচাই করার সুযোগ নেই। ফলে এসব দোকানীরা ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নগরীর বহদ্দারহাটের এক ফল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যবসা করি লাভের আশায়। কিন্তু ফল তো পচনশীল জিনিষ। সবমিলিয়ে ঠিকে থাকতে হলে ওজনে কম দিতেই হবে। তা নাহলে কেউ ফলের ব্যবসা করতে পারবে না।
ডিজিটাল স্কেলে কম দেওয়ার পদ্বতি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন মিটারের ওজনের স্প্রীংয়ের সাথে ১০০-১৫০ গ্রাম ওজনের কোনো কিছু লাগিয়ে দিলে তো হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি বলেন, ওজনে কারচুপি করা মারাতœক অপরাধ। আগে কম ওজনের বাটখারা চোরাই বাজার থেকে কিনে ওজনে ঠকানো হতো। এখন ডিজিটাল স্কেলে ও কারচুপি করছে ব্যবসাীয়রা। এটা ক্রেতাদের বিশ্বাসের উপর চরম আঘাত। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

























