ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপন জারি দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকায় ফিরছে বাটেক্সপো ২০২৬ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ঝরল চার প্রাণ আইআইটি মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মানিকগঞ্জে প্রবাসীসহ তিনজনের মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ নিখোঁজ কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে পুলিশ মিছিলের প্রস্তুতির সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ১৭ বছরে প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্যদের পাস করানো হয়েছে: রিজভী জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস জ্বালানি সংকটে ইউরোপ: বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহের উদ্বেগ

রাজস্ব আয় কমেছে, ঋণের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় বাজেটের আয় ও ব্যয়ের বিশাল ব্যবধান পূরণ করতে গিয়ে সরকারকে প্রতিনিয়ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পরিকল্পনা থাকলেও নানাবিধ কারণে তা আশানুরূপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না সরকারের। তবে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে এখন বিকল্প অর্থায়নের উৎসের সন্ধানে নেমেছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে সরকার মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার কোটি টাকা এসেছে বৈদেশিক উৎস থেকে। বাকি ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থাৎ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

এই চাপ কমাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু এবং অবকাঠামো প্রকল্পের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি সুকুক বা ইসলামী বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া বহুপক্ষীয় সংস্থার বাজেট সহায়তা, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে বন্ধকি ঋণ এবং সবুজ ও নীল বন্ড ইস্যু করার মতো উদ্যোগও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর কৌশল নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গত জুলাই মাসে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যার ভিত্তিতে চীন, জাপান, হংকং এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বন্ড ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

বন্ড পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্মতি দেওয়ার পর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীনের বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’, জাপানে ‘সামুরাই বন্ড’, হংকংয়ে ‘ডিমসাম বন্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডলারভিত্তিক বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি এবং পরামর্শ প্রদানের জন্য জেপি মরগান ও এইচএসবিসির মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের সুকুক বা ইসলামী বন্ডের দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করা হলেও তার অধিকাংশ ছিল অ-বিক্রয়যোগ্য। এখন সরকার বিক্রয়যোগ্য সুকুক ইস্যুর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে এগুলো বাজারে লেনদেন করা যায়।

এদিকে বাজেট সহায়তার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক ১৫০ কোটি ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার নীতিভিত্তিক সহায়তা অনুমোদন করেছে। এছাড়া এডিবির সাথে পাঁচ বছর মেয়াদী ৫ বিলিয়ন ডলারের ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে।

তবে এই নতুন ঋণের উদ্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার ও ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর মনোভাব এখন বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে ২০২৪ সালে মুডিস ও এসঅ্যান্ডপির মতো সংস্থা বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। এছাড়া আইএমএফের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণ টেকসইতার ঝুঁকি ‘মধ্যম’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যু করা ব্যয়বহুল এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। শ্রীলঙ্কার সংকটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে উচ্চ সুদের স্বল্পমেয়াদী বন্ডের কারণেই সংকট তীব্র হয়েছিল। তাই এই পথে হাঁটার আগে ঝুঁকি ও প্রিমিয়ামের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত।

তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চেয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয়মূলক ব্যয় ও বিলাসীবহুল উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক মনে করেন, বন্ডের সফলতা নির্ভর করবে এর গঠনতন্ত্র এবং বিনিয়োগকারীদের ধরনের ওপর। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই এ উদ্যোগ। চাকরির আরও তথ্য: প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চাকরির আরও তথ্য: এর প্রধান বিনিয়োগকারী সাধারণত চীনের নাগরিকরা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও এতে অংশ নিতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানি মুদ্রা ইয়েনে ইস্যু করা বৈদেশিক বন্ডকে সামুরাই বন্ড বলা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২০ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজস্ব আয় কমেছে, ঋণের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় বাজেটের আয় ও ব্যয়ের বিশাল ব্যবধান পূরণ করতে গিয়ে সরকারকে প্রতিনিয়ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পরিকল্পনা থাকলেও নানাবিধ কারণে তা আশানুরূপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না সরকারের। তবে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে এখন বিকল্প অর্থায়নের উৎসের সন্ধানে নেমেছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে সরকার মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার কোটি টাকা এসেছে বৈদেশিক উৎস থেকে। বাকি ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থাৎ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

এই চাপ কমাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু এবং অবকাঠামো প্রকল্পের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি সুকুক বা ইসলামী বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া বহুপক্ষীয় সংস্থার বাজেট সহায়তা, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে বন্ধকি ঋণ এবং সবুজ ও নীল বন্ড ইস্যু করার মতো উদ্যোগও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর কৌশল নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গত জুলাই মাসে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যার ভিত্তিতে চীন, জাপান, হংকং এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বন্ড ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

বন্ড পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্মতি দেওয়ার পর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীনের বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’, জাপানে ‘সামুরাই বন্ড’, হংকংয়ে ‘ডিমসাম বন্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডলারভিত্তিক বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি এবং পরামর্শ প্রদানের জন্য জেপি মরগান ও এইচএসবিসির মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের সুকুক বা ইসলামী বন্ডের দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করা হলেও তার অধিকাংশ ছিল অ-বিক্রয়যোগ্য। এখন সরকার বিক্রয়যোগ্য সুকুক ইস্যুর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে এগুলো বাজারে লেনদেন করা যায়।

এদিকে বাজেট সহায়তার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক ১৫০ কোটি ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার নীতিভিত্তিক সহায়তা অনুমোদন করেছে। এছাড়া এডিবির সাথে পাঁচ বছর মেয়াদী ৫ বিলিয়ন ডলারের ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে।

তবে এই নতুন ঋণের উদ্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার ও ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর মনোভাব এখন বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে ২০২৪ সালে মুডিস ও এসঅ্যান্ডপির মতো সংস্থা বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। এছাড়া আইএমএফের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণ টেকসইতার ঝুঁকি ‘মধ্যম’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যু করা ব্যয়বহুল এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। শ্রীলঙ্কার সংকটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে উচ্চ সুদের স্বল্পমেয়াদী বন্ডের কারণেই সংকট তীব্র হয়েছিল। তাই এই পথে হাঁটার আগে ঝুঁকি ও প্রিমিয়ামের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত।

তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চেয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয়মূলক ব্যয় ও বিলাসীবহুল উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক মনে করেন, বন্ডের সফলতা নির্ভর করবে এর গঠনতন্ত্র এবং বিনিয়োগকারীদের ধরনের ওপর। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই এ উদ্যোগ। চাকরির আরও তথ্য: প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চাকরির আরও তথ্য: এর প্রধান বিনিয়োগকারী সাধারণত চীনের নাগরিকরা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও এতে অংশ নিতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানি মুদ্রা ইয়েনে ইস্যু করা বৈদেশিক বন্ডকে সামুরাই বন্ড বলা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২০ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়।