ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। জুলাই মাসের পর থেকে হুতিদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। রয়টার্স ও বিবিসির খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকালে রিয়াদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া দাবি করেছেন, রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সাহায্যে রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা ও ইয়ানবুর আরামকো তেল ডিপোতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে সৌদি জোট ইয়েমেনে তিন শতাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে আকাশপথের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। চলমান এই অস্থিরতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। উল্লেখ্য, গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির শর্তানুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো দেশের ওপর আক্রমণ পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। জুলাই মাসের পর থেকে হুতিদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। রয়টার্স ও বিবিসির খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকালে রিয়াদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া দাবি করেছেন, রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সাহায্যে রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা ও ইয়ানবুর আরামকো তেল ডিপোতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে সৌদি জোট ইয়েমেনে তিন শতাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে আকাশপথের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। চলমান এই অস্থিরতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। উল্লেখ্য, গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির শর্তানুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো দেশের ওপর আক্রমণ পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।