ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ, তোলপাড়

  • আপডেট সময় : ০৪:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভায় নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে অনিয়মের এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ২০ শতাংশ কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের কাজ রাতের অন্ধকারে করার ফলে তাদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীকালে রাতে গোপনে নজরদারি চালিয়ে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার প্রমাণ পান এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, নির্মাণকাজে রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনার জন্য দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সত্য। তবে এর দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর গ্রহণ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হবে।

এদিকে অনিয়মের দায় স্বীকার না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলামের দাবি, গ্যাপের ভেতরে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে স্লাব তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর ও আজিজ মিয়া বলেন, ঠিকাদার দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে কাজ করতেন এবং বালি-সিমেন্টের সাথে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে আসছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে পরবর্তীতে এর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’।

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ, তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৪:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভায় নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে অনিয়মের এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ২০ শতাংশ কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের কাজ রাতের অন্ধকারে করার ফলে তাদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীকালে রাতে গোপনে নজরদারি চালিয়ে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার প্রমাণ পান এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, নির্মাণকাজে রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনার জন্য দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সত্য। তবে এর দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর গ্রহণ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হবে।

এদিকে অনিয়মের দায় স্বীকার না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলামের দাবি, গ্যাপের ভেতরে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে স্লাব তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর ও আজিজ মিয়া বলেন, ঠিকাদার দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে কাজ করতেন এবং বালি-সিমেন্টের সাথে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে আসছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে পরবর্তীতে এর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’।