ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আজ সোমবার ডলারের দর ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা বরদাস্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের চার শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানতে ইসলামবিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় ট্রাম্পের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল ‘মুরাসু’, বন্দরে ২ নম্বর সংকেত গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ: মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি, মাঠে ২১ ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম বর্ষপূর্তিতে সান ফুকুওক এয়ারওয়েজের বড় মাইলফলক এনসিএলে মেহরবের সেঞ্চুরি ও আরাফাতের ৬ উইকেটের সাফল্য বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি খুলনায় বকেয়া নিয়ে বিরোধে তাঁতী দল নেতাকে হামলা ও মৃত্যু

জাপানের চার শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মতি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগি, দেশের আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণগত ত্রুটির দায়ভার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই চুক্তির আওতায় ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর নতুন কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করার বিষয়টিও মেনে নিয়েছে।

দীর্ঘ দর-কষাকষির পর বেবিচক ও জাপানি পক্ষের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটির কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু করা হবে। চুক্তি মূল্যায়ন কমিটির সহসভাপতি এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বেবিচকের অংশ ২৭ শতাংশের কম হবে না। তবে চূড়ান্ত আর্থিক শর্তাবলি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে আলোচিত শর্তগুলোর একটি হলো শাহজালালের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করা। আইনিভাবে নতুন রানওয়ে বা অবকাঠামো নির্মাণে বাধা না থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ঢাকার আশেপাশে বিকল্প বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ অর্থ পাবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে এই হারের কার্যকারিতা এখনো পরিষ্কার নয়।

চুক্তির অন্যান্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিজস্ব উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক নিয়মের প্রয়োগ। এছাড়া বাংলাদেশের আইন পরিবর্তন হলে চুক্তিতে এর প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্মাণগত ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায়বদ্ধতা কতদিন থাকবে, তাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রথম দিন কয়টি ফ্লাইট চলবে তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে; বেবিচক ১০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করলেও জাপানি কনসোর্টিয়াম বর্তমানে চারটি ফ্লাইট চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। তবে পরিচালনা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটিতে পৌঁছাবে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানের চার শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মতি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগি, দেশের আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণগত ত্রুটির দায়ভার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই চুক্তির আওতায় ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর নতুন কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করার বিষয়টিও মেনে নিয়েছে।

দীর্ঘ দর-কষাকষির পর বেবিচক ও জাপানি পক্ষের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটির কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু করা হবে। চুক্তি মূল্যায়ন কমিটির সহসভাপতি এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বেবিচকের অংশ ২৭ শতাংশের কম হবে না। তবে চূড়ান্ত আর্থিক শর্তাবলি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে আলোচিত শর্তগুলোর একটি হলো শাহজালালের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করা। আইনিভাবে নতুন রানওয়ে বা অবকাঠামো নির্মাণে বাধা না থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ঢাকার আশেপাশে বিকল্প বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ অর্থ পাবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে এই হারের কার্যকারিতা এখনো পরিষ্কার নয়।

চুক্তির অন্যান্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিজস্ব উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক নিয়মের প্রয়োগ। এছাড়া বাংলাদেশের আইন পরিবর্তন হলে চুক্তিতে এর প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্মাণগত ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায়বদ্ধতা কতদিন থাকবে, তাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রথম দিন কয়টি ফ্লাইট চলবে তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে; বেবিচক ১০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করলেও জাপানি কনসোর্টিয়াম বর্তমানে চারটি ফ্লাইট চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। তবে পরিচালনা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটিতে পৌঁছাবে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।