ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডন ভ্রমণ বাতিল সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ১৭৭ কারখানায় আজকের ছুটি ঘোষণা পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে বিজনেস ট্রাভেলার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: বিশ্বের সেরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের আহ্বান জানালেন এনইউ ভিসি মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রোরেলের সব স্টেশন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন রানওয়ে সংস্কারে এক মাস বন্ধ ইতালির নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুনামগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা: ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৮ শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন

ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডন ভ্রমণ বাতিল

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের অনুমতি পাননি ২৩ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত ছাড়পত্র বা অনুমতিপত্র সাথে না থাকায় বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফ্লাইটে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই অবস্থায় ওই নারীকে একা রেখে যেতে রাজি হননি তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্য। ফলে পুরো পরিবারই তাদের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের পর রোববার (১ নভেম্বর) তাদের পুনরায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সেদিন চারজনের কারও লন্ডন যাত্রা হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। চার সদস্যের পরিবারটি যথাসময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছিল। কিন্তু ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ওই নারীর গর্ভাবস্থার বিষয়টি সামনে আসে। বিমান সংস্থার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, এ পর্যায়ে আকাশপথে ভ্রমণের জন্য চিকিৎসকের ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক। যথাযথ অনুমতিপত্র না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই নারীকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, এটি মূলত বিমান সংস্থার নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিষয়। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কেবিন ক্রু ও সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন আইনি ও শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটে অনুমতি দেওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কাগজপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ আকাশযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট পর্যায়গুলোতে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং অনুমোদিত সনদপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে যাত্রীর শারীরিক অবস্থা ও আকাশপথের ভ্রমণের উপযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনার পর আবারও বিমান ভ্রমণকারীদের জন্য যাত্রার পূর্বে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া এবং জরুরি নথিপত্র প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব সামনে এসেছে। এতে করে বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তের যেকোনো জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ বাতিল এড়িয়ে চলা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডন ভ্রমণ বাতিল

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের অনুমতি পাননি ২৩ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত ছাড়পত্র বা অনুমতিপত্র সাথে না থাকায় বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফ্লাইটে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই অবস্থায় ওই নারীকে একা রেখে যেতে রাজি হননি তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্য। ফলে পুরো পরিবারই তাদের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের পর রোববার (১ নভেম্বর) তাদের পুনরায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সেদিন চারজনের কারও লন্ডন যাত্রা হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। চার সদস্যের পরিবারটি যথাসময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছিল। কিন্তু ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ওই নারীর গর্ভাবস্থার বিষয়টি সামনে আসে। বিমান সংস্থার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, এ পর্যায়ে আকাশপথে ভ্রমণের জন্য চিকিৎসকের ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক। যথাযথ অনুমতিপত্র না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই নারীকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, এটি মূলত বিমান সংস্থার নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিষয়। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কেবিন ক্রু ও সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন আইনি ও শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটে অনুমতি দেওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কাগজপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ আকাশযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট পর্যায়গুলোতে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং অনুমোদিত সনদপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে যাত্রীর শারীরিক অবস্থা ও আকাশপথের ভ্রমণের উপযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনার পর আবারও বিমান ভ্রমণকারীদের জন্য যাত্রার পূর্বে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া এবং জরুরি নথিপত্র প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব সামনে এসেছে। এতে করে বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তের যেকোনো জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ বাতিল এড়িয়ে চলা সম্ভব।