ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ

  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে নিয়মিত জাহাজ চলাচল আবারও শুরু হয়েছে। পর্যটন মৌসুমের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এই তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া জাহাজটি যাত্রা করে সফলভাবে দ্বীপে পৌঁছেছিল এবং রাতে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসে। ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ টেকনাফের সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছে। জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে এই ৩ জাহাজে করে সর্বমোট ১৫৫৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন।

শুক্রবার সকালে এমভি কর্ণফুলী এবং এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটি প্রথমবারের মতো এ মৌসুমে যাত্রা শুরু করে। এর আগে বৃহস্পতিবার এমভি বারো আউলিয়া সেন্টমার্টিনে যায়। এই ৩টি জাহাজের যাত্রী সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক ভ্রমণে বের হয়েছেন। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পর্যটকদের নিয়ে এমভি বার আউলিয়া প্রথম দিন যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রী সংখ্যা ৮৩৬ জন হওয়ায় প্রথম দিন কেবল একটি জাহাজ ছাড়া হয়েছিল, যা সকাল সাতটার দিকে নুনিয়াছড়া ঘাট ছেড়ে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়।

পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধার্থে এবার শুধুমাত্র কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ ছাড়ার নিয়ম রাখা হয়েছে; টেকনাফ বা অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া পর্যটকদের দ্বীপে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জাহাজ ভাড়া একমুখী জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটে কেবিনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দিনে যখন জাহাজটি নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়, তখন দ্বীপের বাসিন্দারা ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করে নেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজ আসায় দ্বীপে আনন্দের আমেজ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে আসেন এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটননির্ভর। মৌসুমের শুরুতেই এমন সাড়া পাওয়া দ্বীপবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। তাঁদের প্রত্যাশা, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ৫ নভেম্বর পর্যটন মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে।

৬ নভেম্বর আরও দুটি জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজ দ্বীপে গিয়েছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং অনেক পর্যটক আগেই তাদের থাকার কক্ষ বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে নিয়মিত জাহাজ চলাচল আবারও শুরু হয়েছে। পর্যটন মৌসুমের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এই তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া জাহাজটি যাত্রা করে সফলভাবে দ্বীপে পৌঁছেছিল এবং রাতে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসে। ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ টেকনাফের সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছে। জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে এই ৩ জাহাজে করে সর্বমোট ১৫৫৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন।

শুক্রবার সকালে এমভি কর্ণফুলী এবং এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটি প্রথমবারের মতো এ মৌসুমে যাত্রা শুরু করে। এর আগে বৃহস্পতিবার এমভি বারো আউলিয়া সেন্টমার্টিনে যায়। এই ৩টি জাহাজের যাত্রী সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক ভ্রমণে বের হয়েছেন। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পর্যটকদের নিয়ে এমভি বার আউলিয়া প্রথম দিন যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রী সংখ্যা ৮৩৬ জন হওয়ায় প্রথম দিন কেবল একটি জাহাজ ছাড়া হয়েছিল, যা সকাল সাতটার দিকে নুনিয়াছড়া ঘাট ছেড়ে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়।

পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধার্থে এবার শুধুমাত্র কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ ছাড়ার নিয়ম রাখা হয়েছে; টেকনাফ বা অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া পর্যটকদের দ্বীপে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জাহাজ ভাড়া একমুখী জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটে কেবিনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দিনে যখন জাহাজটি নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়, তখন দ্বীপের বাসিন্দারা ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করে নেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজ আসায় দ্বীপে আনন্দের আমেজ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে আসেন এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটননির্ভর। মৌসুমের শুরুতেই এমন সাড়া পাওয়া দ্বীপবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। তাঁদের প্রত্যাশা, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ৫ নভেম্বর পর্যটন মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে।

৬ নভেম্বর আরও দুটি জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজ দ্বীপে গিয়েছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং অনেক পর্যটক আগেই তাদের থাকার কক্ষ বুকিং দিয়ে রেখেছেন।