বোয়িং থেকে আরও ১১ বিমান কিনছে বিমান বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১০:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই নতুন ক্রয়াদেশের ফলে গত পাঁচ মাসে বোয়িং থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বোয়িং ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার তথ্যমতে, নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা প্রতি ডলার ধরে হিসাব করলে, এই ১১টি উড়োজাহাজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সেই তালিকায় আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই দুই দফার ক্রয়াদেশ বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহরে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এতে ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের দুটি সংস্করণ ও ৭৩৭-৮ ম্যাক্সসহ বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯টিতে। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার প্রশস্ত কাঠামোর এবং ৭৩৭ ম্যাক্স সরু কাঠামোর উড়োজাহাজ।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ (১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮) রয়েছে। নতুন ২৫টি যুক্ত হলে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ৪৪টি। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো আগের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানিসাশ্রয়ী। ফলে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন নতুন ও বিদ্যমান রুটে বিমান তার কার্যক্রম সম্প্রসারণে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করা হয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই চুক্তিকে মার্কিন উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


























