শাহজালালে ১,১৬৩টি কচ্ছপসহ মালয়েশিয়াগামী যাত্রী আটক
- আপডেট সময় : ১০:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হাজার ১৬৩টি কচ্ছপসহ মো. শহীদুল ইসলাম (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি যৌথ দল বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। টাঙ্গাইলের হোসনাবাদ ও মাহমুদনগর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বাটিক এয়ারের ওডি১৬১ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ১৬৩টি কচ্ছপসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি যৌথ দল। আটক ব্যক্তির নাম মো. শহীদুল ইসলাম, বয়স ৫৭ বছর। একসঙ্গে ১ হাজার ১৬৩টি কচ্ছপ উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী পাচারের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
অভিযান পরিচালনায় বন অধিদপ্তরের আগারগাঁও কার্যালয়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ, বিমানবন্দর থানা পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমন্বিত ভূমিকা পালন করেন। তল্লাশির সময় তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে বিপুলসংখ্যক কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রের তৎপরতা রোধে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
জব্দ করা কচ্ছপগুলোর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রাণীগুলোকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই সন্দেহভাজন যাত্রী ও মালামালের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হচ্ছে। এভাবে আন্তর্জাতিক রুটে বন্যপ্রাণী পাচারের অপচেষ্টা জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের চেষ্টা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ, কার্গো এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববারের অভিযানও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।


























