ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সেতুর অভাবে ছয় দশক ধরে ভোগান্তি ৫০ হাজার মানুষের

  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সুজুনি খালের ওপর একটি সেতুর অভাবে প্রায় ছয় দশক ধরে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুই জেলার মানুষ। খালের উভয় পাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও হাটবাজারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে খালটি পারাপার তাদের জন্য এক দুঃসাধ্য কাজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খালের পূর্ব তীরের বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজে যাতায়াতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। চরগিরিশ এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম জানান, বন্যার সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, পর্যাপ্ত নৌকার অভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন জানিয়েছে, নৌকা সময়মতো না মেলায় প্রায়ই তাদের ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বিকাল গড়িয়ে গেলে যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে চরম অসহায়ত্ব ঘিরে ধরে স্থানীয়দের। তখন কারো হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কোন গতি থাকে না। সারা বছরই মানুষের কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খালে পানি থাকলেও পারাপারে সমস্যা, না থাকলেও যাতায়াতে সমস্যা। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারিনা।

কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার মতে, বর্ষাকালে খেয়ানৌকাই একমাত্র ভরসা, যা পার হতে চার থেকে পাঁচ মিনিট লাগে। তবে বছরের বাকি সময় খাল শুকিয়ে গেলেও চলাচলের উপযুক্ত পথ না থাকায় দুর্ভোগ থেকেই যায়। কৃষকদের জন্য এই সেতুটি আরও বেশি জরুরি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান হবি জানান, ফসল চাষাবাদ ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত এই খাল পার হতে হয়, যা ফসল তোলার মৌসুমে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল মনে করেন, একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহজেই তাদের পণ্য পাঠাতে পারবেন। কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ও সাতপোয়া ইউনিয়নের মানুষজনকে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের জন্য নিয়মিতই এই খাল পার হতে হয়। ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায়শই বিশেষ করে হাটের দিন একসাথে অনেকজনকে এই খাল পার হতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে উভয় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, এলাকাটি কাজিপুরের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে তাদের সরাসরি সেতু নির্মাণের সুযোগ নেই, তবে জনস্বার্থে সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে কাজিপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ জানান, সুজুনি খালের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সেতুর অভাবে ছয় দশক ধরে ভোগান্তি ৫০ হাজার মানুষের

আপডেট সময় : ০১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সুজুনি খালের ওপর একটি সেতুর অভাবে প্রায় ছয় দশক ধরে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুই জেলার মানুষ। খালের উভয় পাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও হাটবাজারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে খালটি পারাপার তাদের জন্য এক দুঃসাধ্য কাজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খালের পূর্ব তীরের বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজে যাতায়াতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। চরগিরিশ এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম জানান, বন্যার সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, পর্যাপ্ত নৌকার অভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন জানিয়েছে, নৌকা সময়মতো না মেলায় প্রায়ই তাদের ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বিকাল গড়িয়ে গেলে যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে চরম অসহায়ত্ব ঘিরে ধরে স্থানীয়দের। তখন কারো হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কোন গতি থাকে না। সারা বছরই মানুষের কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খালে পানি থাকলেও পারাপারে সমস্যা, না থাকলেও যাতায়াতে সমস্যা। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারিনা।

কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার মতে, বর্ষাকালে খেয়ানৌকাই একমাত্র ভরসা, যা পার হতে চার থেকে পাঁচ মিনিট লাগে। তবে বছরের বাকি সময় খাল শুকিয়ে গেলেও চলাচলের উপযুক্ত পথ না থাকায় দুর্ভোগ থেকেই যায়। কৃষকদের জন্য এই সেতুটি আরও বেশি জরুরি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান হবি জানান, ফসল চাষাবাদ ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত এই খাল পার হতে হয়, যা ফসল তোলার মৌসুমে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল মনে করেন, একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহজেই তাদের পণ্য পাঠাতে পারবেন। কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ও সাতপোয়া ইউনিয়নের মানুষজনকে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের জন্য নিয়মিতই এই খাল পার হতে হয়। ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায়শই বিশেষ করে হাটের দিন একসাথে অনেকজনকে এই খাল পার হতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে উভয় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, এলাকাটি কাজিপুরের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে তাদের সরাসরি সেতু নির্মাণের সুযোগ নেই, তবে জনস্বার্থে সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে কাজিপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ জানান, সুজুনি খালের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।