শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি লাগেজ পেতে অতিরিক্ত দেরি, ট্রলি সংকট এবং ইমিগ্রেশনে নানা হয়রানির অভিযোগ সামনে আসায় বিমানবন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতেও যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে। এর আগে ও পরে দেশে ফেরা কয়েকজন যাত্রীও নিজেদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সীমিত সক্ষমতার মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় কিছু সরঞ্জাম ও জনবল কম থাকায় মাঝে মাঝে সেবা ব্যাহত হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে প্রায় চার হাজার ট্রলি রয়েছে। তবে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল হয়ে পড়ে। এই সংকট নিরসনে এর আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ট্রলি আনা হয়েছিল। এর মধ্যেও গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা লাগেজ পেতে দেরি ও ট্রলি সংকটের কারণে বেল্ট এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পড়েন। ওই সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে উত্তপ্ত তর্কে জড়ানোর অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাকে হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সমস্যা সাময়িকভাবে মোকাবিলায় কয়েক মাস আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেও ট্রলি আনা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভয়াবহ ভোগান্তির চিত্র। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরা এক গণমাধ্যমকর্মী জানিয়েছেন, লাগেজ পেতে তার দেড় ঘণ্টা লেগেছে এবং লাগেজ দুটি ভাঙা ও খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। একইভাবে সৌদি আরব থেকে আসা আরেক যাত্রী জানান, ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেও ট্রলি পেতে তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একসঙ্গে একাধিক বড় ফ্লাইট নামলে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামলাতে গিয়েই মূলত ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়। যাচাই করে এসব ভিডিওর কয়েকটির সত্যতা পাওয়া গেছে।
এদিকে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পুরনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, কর্তব্যে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিষ্ঠাবান কর্মীদের পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সেবার মান বাড়াতে জবাবদিহি ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদারের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অব্যবস্থাপনা কমাতে সরঞ্জাম বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
























