রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
- আপডেট সময় : ০২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ঘিরে মব পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজশাহী মহানগর রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি করেন। বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আজ সকালে পুলিশ একজনকে আটক করেছে বলে জেনেছি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মামলার বাদী মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, এই ঘটনায় আমরা সবাই মানসিকভাবে আতঙ্কিত। মঙ্গলবার দুপুরে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা উপাচার্য ও তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে অভিযুক্ত করে এবং ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শারীরিক লাঞ্ছিত করে। তারা আগে থেকেই পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করে নিয়ে এসেছিল এবং জোরপূর্বক তাতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পরপরই তাদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় হামলাকারীরা কার্যালয় থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ধারণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায়। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পদত্যাগপত্রটি তারা আগেই টাইপ করে নিয়ে এসেছিল।
উপাচার্য ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক পরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, মিটিং চলাকালে বাইরের হট্টগোল শুনেছিলাম। এর কিছুক্ষণ পরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে দপ্তরে প্রবেশ করে এবং আমাকে চেয়ার থেকে নেমে আসতে কঠোর নির্দেশ দেয়। তারা অভিযোগ তোলে যে আমি রাজশাহীর পরিবর্তে বাইরের লোকজনকে কাজ দিচ্ছি। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর না করলে আরও খারাপ পরিস্থিতির শিকার হতে হতো—এমন আশঙ্কা থেকে আমি বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করি। উপাচার্য আরও জানান, স্বাক্ষর নেওয়ার পর তারা আমাকে দপ্তর থেকে বের করে দেয়, আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তিনি বলেন, ‘মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পাই।
























