সৌদিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েন: ইয়েমেনে হামলা নয়, কেবল প্রতিরক্ষা
- আপডেট সময় : ১০:০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে সেনা পাঠালেও তা ইয়েমেনে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নয়। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই চুক্তিটি কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক নয় এবং অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানের জন্য এটি ব্যবহৃত হবে না। মূলত সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে সংহতি প্রকাশে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ফিদান জানান, সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তার ধরন মূল্যায়নের জন্য তিন দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের সহায়তার মাত্রা নির্ধারণ করবে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এসব সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।
মক্কা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই তা পাঠানো হবে। তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রাখা হবে। ২০১০ সালের সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আলোকে সীমিতসংখ্যক সেনা সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে আঙ্কারার। যত দ্রুত সম্ভব এটি পার্লামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।’।
পরিকল্পনার প্রধান দিকসমূহ
- লক্ষ্য: সৌদি আরবের অবকাঠামো ও আকাশসীমা রক্ষা করা।
- সামরিক ভূমিকা: পাইলট, উড়োজাহাজ, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও জরুরি সাড়াদানকারী দল প্রেরণ।
- পার্লামেন্টারি অনুমোদন: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর বিশেষ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন হতে পারে।
- কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশা করছে আঙ্কারা।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে অভিজ্ঞ পাইলটসহ প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সৌদি আরবে পাঠানো হবে। তবে এসব বাহিনীর ভূমিকা হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তুরস্কের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও বলেন, আঙ্কারা বড় আকারের কোনো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না এবং ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই। সৌদি আরবে তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। চলতি মাসের শেষের দিকে এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ ও জনবলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।























