ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও অব্যবস্থাপনা: উত্তরণের পথ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেসির বিদায়ে নতুন চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য মতিঝিলের বাংলার বাণী ভবন এখন প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীদের দখলে সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন ঢাকার গণপরিবহণ ও সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আকাশপথের ভাড়া বাড়ছে নিউইয়র্কে নিখোঁজ বাংলাদেশি নেতার মৃত্যু নিশ্চিত জম্মু-কাশ্মীরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জিয়াউল আহসানের ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব

মেসির বিদায়ে নতুন চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য

  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লিওনেল মেসির বিদায়ের সাথে সাথে কেবল একটি সোনালী যুগের অবসান হয়নি, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় বাণিজ্যেও শুরু হয়েছে এক নতুন কঠিন পরীক্ষার সময়। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা মেসি যখন শেষবারের মতো মনুমেন্টালের সবুজ মাঠে নামলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছে, তাঁকে ছাড়া কোটি ডলারের এই বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কতটা টিকে থাকতে পারবে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোল এবং দুই অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তটিও স্মরণীয় করে রেখেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮টি ম্যাচে ১২৬ গোল করা এই কিংবদন্তি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করে লিওনেল মেসি যখন মনুমেন্টালের সবুজ মাঠ ছাড়লেন, তখন আর্জেন্টিনার সামনে নতুন এক প্রশ্ন, মেসিকে ছাড়া এতদিনের তৈরি করা কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কতটা শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে গোল ও দুই অ্যাসিস্টে শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায় রাঙিয়েছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সে শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সি পরার আগে ২০৮ ম্যাচে করেছেন ১২৬ গোল; জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ বিশ্বকাপ। এই বিস্ফোরক বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের একমাত্র কারণ অবশ্যই মেসি নন।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বাণিজ্যিক প্রসারের চিত্রটি বিস্ময়কর। ২০১৭ সালে যেখানে জাতীয় দলের বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছিল, সেখানে লিয়ান্দ্রো পিটারসেনের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমানে সেই সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এএফএর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের নানা প্রান্তের ১২০টিরও বেশি ব্র্যান্ডের সাথে তাদের অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে আর্জেন্টিনা ব্র্যান্ডের এই যে বিস্তার, তার পেছনে মেসির প্রভাব অনস্বীকার্য। পিটারসেনের ভাষায়, মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধির মূল গতিবর্ধক, যিনি আগে অস্পর্শী থাকা অনেক নতুন বাজারের দরজা খুলে দিয়েছেন। এএফএর নিজস্ব তথ্যেও ২০২৬ সালে ১২০টির বেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্বের কথা বলা হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার হাতে স্বস্তির জায়গাও আছে।

মেসির শেষ ম্যাচটিই ছিল তাঁর বৈশ্বিক চাহিদার বড় প্রমাণ। মনুমেন্টালের ৮৫ হাজার আসনের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। কিছু টিকিট কালোবাজারে ৪ লাখ ৮০ হাজার আর্জেন্টাইন পেসো পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ফোর্বস আর্জেন্টিনার হিসাব মতে, কেবল এই ম্যাচ থেকে টিকিট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যাও ছিল রেকর্ড গড়ার মতো। স্পষ্টতই, প্রতিপক্ষ বেনিন হলেও মেসির উপস্থিতিতে প্রীতি ম্যাচটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক ও গ্লোবাল ইভেন্টে রূপ নিয়েছিল। টেলিভিশনেও ম্যাচটি পেয়েছে অসাধারণ দর্শকসংখ্যা।

অবশ্য এএফএ কেবল মেসির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলের ধারাবাহিক সাফল্য, বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের ধারাবাহিকতা এবং এএফএর দীর্ঘমেয়াদি বিপণন পরিকল্পনা এই অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বোনাস বাবদ প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে আর্জেন্টিনা, যা পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতিফলন। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনা ফুটবল এখন শুধু আবেগের নাম নয়, বরং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক শক্তি।

এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মাঠের বাইরে এবং ভেতরে মেসির সেই অভাব পূরণ করা। ভবিষ্যতে কে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে সেই দায়িত্ব নেবেন তা সময় বলবে, তবে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক অবস্থান ধরে রাখাটা এখন এএফএর জন্য বড় পরীক্ষা। জার্সি বিক্রি থেকে শুরু করে ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব—সবকিছুতেই কি আগের মতো সেই জাদুকরী আকর্ষণ বজায় থাকবে? মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলের বাণিজ্যিক ইতিহাসে যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো, তার উত্তর এখন সময়ের হাতেই ন্যস্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেসির বিদায়ে নতুন চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য

আপডেট সময় : ০৭:২৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

লিওনেল মেসির বিদায়ের সাথে সাথে কেবল একটি সোনালী যুগের অবসান হয়নি, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় বাণিজ্যেও শুরু হয়েছে এক নতুন কঠিন পরীক্ষার সময়। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা মেসি যখন শেষবারের মতো মনুমেন্টালের সবুজ মাঠে নামলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছে, তাঁকে ছাড়া কোটি ডলারের এই বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কতটা টিকে থাকতে পারবে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোল এবং দুই অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তটিও স্মরণীয় করে রেখেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮টি ম্যাচে ১২৬ গোল করা এই কিংবদন্তি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করে লিওনেল মেসি যখন মনুমেন্টালের সবুজ মাঠ ছাড়লেন, তখন আর্জেন্টিনার সামনে নতুন এক প্রশ্ন, মেসিকে ছাড়া এতদিনের তৈরি করা কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কতটা শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে গোল ও দুই অ্যাসিস্টে শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায় রাঙিয়েছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সে শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সি পরার আগে ২০৮ ম্যাচে করেছেন ১২৬ গোল; জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ বিশ্বকাপ। এই বিস্ফোরক বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের একমাত্র কারণ অবশ্যই মেসি নন।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বাণিজ্যিক প্রসারের চিত্রটি বিস্ময়কর। ২০১৭ সালে যেখানে জাতীয় দলের বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছিল, সেখানে লিয়ান্দ্রো পিটারসেনের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমানে সেই সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এএফএর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের নানা প্রান্তের ১২০টিরও বেশি ব্র্যান্ডের সাথে তাদের অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে আর্জেন্টিনা ব্র্যান্ডের এই যে বিস্তার, তার পেছনে মেসির প্রভাব অনস্বীকার্য। পিটারসেনের ভাষায়, মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধির মূল গতিবর্ধক, যিনি আগে অস্পর্শী থাকা অনেক নতুন বাজারের দরজা খুলে দিয়েছেন। এএফএর নিজস্ব তথ্যেও ২০২৬ সালে ১২০টির বেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্বের কথা বলা হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার হাতে স্বস্তির জায়গাও আছে।

মেসির শেষ ম্যাচটিই ছিল তাঁর বৈশ্বিক চাহিদার বড় প্রমাণ। মনুমেন্টালের ৮৫ হাজার আসনের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। কিছু টিকিট কালোবাজারে ৪ লাখ ৮০ হাজার আর্জেন্টাইন পেসো পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ফোর্বস আর্জেন্টিনার হিসাব মতে, কেবল এই ম্যাচ থেকে টিকিট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যাও ছিল রেকর্ড গড়ার মতো। স্পষ্টতই, প্রতিপক্ষ বেনিন হলেও মেসির উপস্থিতিতে প্রীতি ম্যাচটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক ও গ্লোবাল ইভেন্টে রূপ নিয়েছিল। টেলিভিশনেও ম্যাচটি পেয়েছে অসাধারণ দর্শকসংখ্যা।

অবশ্য এএফএ কেবল মেসির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলের ধারাবাহিক সাফল্য, বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের ধারাবাহিকতা এবং এএফএর দীর্ঘমেয়াদি বিপণন পরিকল্পনা এই অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বোনাস বাবদ প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে আর্জেন্টিনা, যা পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতিফলন। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনা ফুটবল এখন শুধু আবেগের নাম নয়, বরং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক শক্তি।

এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মাঠের বাইরে এবং ভেতরে মেসির সেই অভাব পূরণ করা। ভবিষ্যতে কে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে সেই দায়িত্ব নেবেন তা সময় বলবে, তবে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক অবস্থান ধরে রাখাটা এখন এএফএর জন্য বড় পরীক্ষা। জার্সি বিক্রি থেকে শুরু করে ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব—সবকিছুতেই কি আগের মতো সেই জাদুকরী আকর্ষণ বজায় থাকবে? মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলের বাণিজ্যিক ইতিহাসে যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো, তার উত্তর এখন সময়ের হাতেই ন্যস্ত।