ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শাহজালালে সোনা পাচার: আরমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত

  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ চোরাচালানের দায়ে গ্রেপ্তার আরমান উদ্দিন সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আরমান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এই পাচার চক্রের মূল হোতা, নেপথ্যের অর্থের জোগানদাতা এবং পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। এখন আদালতের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে। আশা করা হচ্ছে, এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন ৩৬ বছর বয়সী আরমান উদ্দিন সিদ্দিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের প্রতিরোধ দল তাঁকে শুরু থেকেই নজরদারিতে রেখেছিল। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় পৌঁছালে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পায়ুপথে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোতে ২৪ ক্যারেটের ১ হাজার ২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব পেস্ট প্রক্রিয়াজাত করলে প্রায় এক কেজি খাঁটি স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট ছিল।

এই ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এইচ এম মামুন কায়সার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত শেষে আরও তথ্য জানা যাবে। তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পেস্ট এবং আসামির দেহ তল্লাশিতে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে চোরাচালানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রিমান্ডকালীন জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালালে সোনা পাচার: আরমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত

আপডেট সময় : ০৮:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ চোরাচালানের দায়ে গ্রেপ্তার আরমান উদ্দিন সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আরমান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এই পাচার চক্রের মূল হোতা, নেপথ্যের অর্থের জোগানদাতা এবং পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। এখন আদালতের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে। আশা করা হচ্ছে, এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন ৩৬ বছর বয়সী আরমান উদ্দিন সিদ্দিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের প্রতিরোধ দল তাঁকে শুরু থেকেই নজরদারিতে রেখেছিল। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় পৌঁছালে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পায়ুপথে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোতে ২৪ ক্যারেটের ১ হাজার ২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব পেস্ট প্রক্রিয়াজাত করলে প্রায় এক কেজি খাঁটি স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট ছিল।

এই ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এইচ এম মামুন কায়সার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত শেষে আরও তথ্য জানা যাবে। তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পেস্ট এবং আসামির দেহ তল্লাশিতে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে চোরাচালানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রিমান্ডকালীন জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।