পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের হেনস্থা: উদ্বেগের হিড়িক
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
গত মাত্র পাঁচ সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তত পাঁচজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বকে নানাভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোথাও মামলার খড়্গ নেমে এসেছে, কোথাও বা চলছে ধরপাকড়। কেউ প্রকাশ্যে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ নেপথ্য থেকে চাপের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের তালিকায় রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জিএম কাদের, রুমিন ফারহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বাঁধনের মতো বিশিষ্টজন। দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে অবস্থানরত এই কৃতী সন্তানদের স্বদেশের মানুষরাই বিভিন্ন সময়ে অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। মাত্র ৫ সপ্তাহে ৫ খ্যাতিমান নাজেহাল। দলীয় দৃষ্টিকোণে অনেকে প্রশংসাও করছেন। তবে হেনস্থাকারীরা পাল্টা হেনস্থার শিকারও হচ্ছেন। হচ্ছে মামলা-মোকদ্দমা, চলছে ধর-পাকড়ও। প্রথম আঘাত রবীন্দ্রনাথ কৌশলে নিয়ন্ত্রিত সংঘাত অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র ‘মহালয়া’। আটদিন পরই পবিত্র দুর্গা পূজর মহোৎসব। এই সময়েই ঢাকায় ঘটলো সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনপঞ্জি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৮৬১ সালের ৭ মে বা ২৫ বৈশাখ তাঁর জন্ম। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের তিনি তীব্র বিরোধী ছিলেন। তাঁর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল বাঈজীবাড়ি পরিচালনা। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে, ১৯২৬ সালে তিনি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন। তবে আজ ইতিহাসের এই মহানায়ককে ঘিরেও নানা বিতর্ক ও নেতিবাচক প্রচারণার হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় পার্টির প্রধান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থী হওয়ার অভিযোগ এনে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এর আগে শেখ হাসিনার সাথে তাঁর গোপনে ফোনালাপের বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। এছাড়া তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিএনপি-আতঙ্কে ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে আর বিএনপির রাজনীতিতে ফিরবেন না। এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। সবাই হেনস্থা হয়েছেন স্বদেশীদের দ্বারাই। ‘মব’ সংস্কৃতির বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত।
এদিকে শেখ হাসিনার পুত্র ও সাবেক প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়ার চর্চা দেখা গেছে। একইসাথে রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের মধ্যেও হেনস্থার ঘটনা কম নয়। উদাহরণস্বরূপ, নেতা আয়াসের ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশিষ্টজনদের নাজেহাল করার এই প্রবণতা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কেউ বলছেন এটি বিদ্বেষপ্রসূত কর্মকাণ্ড, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বরেণ্য ব্যক্তিদের হেনস্থার এই হিড়িক কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াচ্ছে না, বরং সমাজে অসহিষ্ণুতার চিত্রকেও প্রকট করে তুলছে। ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো না কোনো বিতর্কের আবর্তে জড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।























