ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদি আরবের দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ: পুলিশের বাধা ভেঙে আটক সিজেপি নেতারা জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানাল অক্সিজেন ত্রুটি: মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে ৭৮ যাত্রী বাদ ইরানের সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বুঝতে ভুল করেছে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটি আনছে এনসিপি চুয়েটে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ চাটমোহরে জমি দখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী বহর বড় করতে দুটি এয়ারবাস লিজ নিচ্ছে মালদিভিয়ান

হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদি আরবের

  • আপডেট সময় : ১০:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের নতুন একটি যুদ্ধের ময়দানে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদের কাছে অনুমতি চেয়েছিল তেল আবিব। তবে সৌদি আরবের কার্যত শাসক ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জনমতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণেই যুবরাজ এমন অবস্থান নিয়েছেন। সৌদি জনগণের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি ইসরাইলের সামরিক অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলের এই প্রস্তাব নাকচ করার পেছনে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই মার্কিন মিত্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারত। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি পথও তৈরি হতে পারত বলে প্রত্যাশা ছিল তেল আবিবের।

বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যদিও ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রিয়াদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অসম্ভব। বিপরীত দিকে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থা বেশ চাপের মুখে পড়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়িয়ে শনিবার পর্যন্ত করা হয়েছে এবং অনেক এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক প্রস্তাবের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ইয়েমেনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় লক্ষ্য সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগের কয়েক সপ্তাহ গাজায় সংঘাত বিস্তৃত হওয়া রোধে নেতানিয়াহু যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার পেছনেও সৌদি আরবের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন স্বয়ং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদি আরবের

আপডেট সময় : ১০:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের নতুন একটি যুদ্ধের ময়দানে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদের কাছে অনুমতি চেয়েছিল তেল আবিব। তবে সৌদি আরবের কার্যত শাসক ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জনমতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণেই যুবরাজ এমন অবস্থান নিয়েছেন। সৌদি জনগণের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি ইসরাইলের সামরিক অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলের এই প্রস্তাব নাকচ করার পেছনে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই মার্কিন মিত্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারত। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি পথও তৈরি হতে পারত বলে প্রত্যাশা ছিল তেল আবিবের।

বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যদিও ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রিয়াদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অসম্ভব। বিপরীত দিকে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থা বেশ চাপের মুখে পড়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়িয়ে শনিবার পর্যন্ত করা হয়েছে এবং অনেক এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক প্রস্তাবের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ইয়েমেনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় লক্ষ্য সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগের কয়েক সপ্তাহ গাজায় সংঘাত বিস্তৃত হওয়া রোধে নেতানিয়াহু যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার পেছনেও সৌদি আরবের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন স্বয়ং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।