ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাঁথিয়ায় ১৩৪ বস্তা সার জব্দ, অসাধু ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড বাংলাদেশে চার খাতে সংস্কারে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: বিশ্বব্যাংক চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি জাতীয় পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শাবিপ্রবির ‘স্টিচ এআই’ বিশেষ কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ দেখেই অনুপ্রাণিত ভারতের তরুণরা: নেহা বোরা চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের বাড়ল ব্যয় ও পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের হেনস্থা: উদ্বেগের হিড়িক

বাংলাদেশে চার খাতে সংস্কারে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: বিশ্বব্যাংক

  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংস্থাটির ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক বেসরকারি খাতের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। ব্যাংককে আয়োজিত বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে ‘আনলকিং ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান বোয়াত্রো।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, পরিকল্পিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নির্মাণ শিল্পে বছরে ২৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি সম্ভব। এছাড়া দেশীয় রং ও রঞ্জক উৎপাদন শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছয় লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবায় যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে ৯৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দেশীয়ভাবে রং ও রঞ্জক উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল অর্থায়ন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং নীতিগত জটিলতা নিরসন এবং ব্যবসায়িক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি। আলোচনায় প্রশ্ন করেন বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস এডিটর গোলাম মওলা। বিশ্বব্যাংকের মতে, এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই চলবে না; ব্যবসায়িক বাধা দূর করা, নীতিমালা সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা নিরসনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট–২’ কর্মসূচির আওতায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার ও জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কাজ করে যাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে আংশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করে আইএফসি, যা বড় প্রকল্পের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার মান ওঠানামা এবং ঋণঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০২৪ সালে একটি গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সংস্থাটির সহায়তার পরিমাণ গত চার বছরে তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে এই সহায়তার পরিমাণ ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উল্লম্ফন ঘটবে। অবশ্য প্রতিবেদনের সব কর্মসংস্থানের সংখ্যাই সম্ভাব্য হিসাব, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বাস্তবধর্মী সংস্কার কার্যক্রমের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে চার খাতে সংস্কারে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৭:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংস্থাটির ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক বেসরকারি খাতের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। ব্যাংককে আয়োজিত বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে ‘আনলকিং ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান বোয়াত্রো।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, পরিকল্পিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নির্মাণ শিল্পে বছরে ২৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি সম্ভব। এছাড়া দেশীয় রং ও রঞ্জক উৎপাদন শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছয় লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবায় যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে ৯৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দেশীয়ভাবে রং ও রঞ্জক উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল অর্থায়ন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং নীতিগত জটিলতা নিরসন এবং ব্যবসায়িক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি। আলোচনায় প্রশ্ন করেন বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস এডিটর গোলাম মওলা। বিশ্বব্যাংকের মতে, এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই চলবে না; ব্যবসায়িক বাধা দূর করা, নীতিমালা সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা নিরসনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট–২’ কর্মসূচির আওতায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার ও জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কাজ করে যাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে আংশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করে আইএফসি, যা বড় প্রকল্পের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার মান ওঠানামা এবং ঋণঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০২৪ সালে একটি গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সংস্থাটির সহায়তার পরিমাণ গত চার বছরে তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে এই সহায়তার পরিমাণ ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উল্লম্ফন ঘটবে। অবশ্য প্রতিবেদনের সব কর্মসংস্থানের সংখ্যাই সম্ভাব্য হিসাব, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বাস্তবধর্মী সংস্কার কার্যক্রমের ওপর।