ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাখির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এমিরেটস ফ্লাইট, দিল্লিতে ভোগান্তিতে যাত্রীরা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার ববি হাজ্জাজ |: প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ লোহাগড়ায় পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের শাড়ি ও চাল বিতরণ ইশরাক: জমি দখল বা চাঁদাবাজি নয়, মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার: শাহ আমানতে আটক ১ রাষ্ট্রপতি: পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আড়াইহাজারে দুই তরুণকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ

ববি হাজ্জাজ |: প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার

  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার পাঁচটি মৌলিক ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিষয়গুলো হলো—কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একটি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ তৈরি, মান উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিশুবান্ধব ও শিখনফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ও খেলনাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ৩ হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

শিক্ষক ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া ১১ ধাপের পরিদর্শন পদ্ধতি ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের তদারকি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতা, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য উপযোগী শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং এরই মধ্যে প্রথম অর্থবছরে ২ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। এতে আরও অংশ নেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ববি হাজ্জাজ |: প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার পাঁচটি মৌলিক ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিষয়গুলো হলো—কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একটি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ তৈরি, মান উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিশুবান্ধব ও শিখনফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ও খেলনাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ৩ হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

শিক্ষক ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়া ১১ ধাপের পরিদর্শন পদ্ধতি ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের তদারকি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতা, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য উপযোগী শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং এরই মধ্যে প্রথম অর্থবছরে ২ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। এতে আরও অংশ নেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।