ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে ২৬ সালের গ্রীষ্মে নজিরবিহীন তাপদাহ

  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি ২০২৬ সালের মে মাসের শেষভাগ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত চরম তাপমাত্রা জনিত সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণহানির ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব

বিজ্ঞান ভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার হেলথ’-এ প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণাপত্রে জানানো হয়, এই মৃত্যুর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার ৬০০টি ঘটনার পেছনে সরাসরি দায়ী বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন। মূলত অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ পুরো বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে তাপপ্রবাহ আরও চরম আকার ধারণ করছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া বিষয়ক গবেষক এবং এই গবেষণার অন্যতম লেখক ক্লেয়ার বার্নস উল্লেখ করেছেন, ইউরোপের বিশাল এক এলাকায় ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা জনিত প্রাণহানি পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তুরস্কে জাতিসংঘের বাৎসরিক জলবায়ু সম্মেলন শুরুর কিছুদিন আগেই এই চাঞ্চল্যকর ডেটা সামনে এলো। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেকর্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকতে পারে।জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে।

ক্লেয়ার বার্নস আরও সতর্ক করে বলেন, চরম জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতি কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখনো অনেক পেছনে রয়ে গেছে। যদি দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হয় তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে যেসব মহাদেশ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে তার মধ্যে ইউরোপ শীর্ষে রয়েছে।

তাপমাত্রার বৈষম্য ও রেকর্ড পারদ

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ এখন প্রায় শেষ। গবেষণায় দেখা যায়, পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এবার প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি গরম রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট দেশে সাধারণ দিনের তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপে ২৬ সালের গ্রীষ্মে নজিরবিহীন তাপদাহ

আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬ সালের মে মাসের শেষভাগ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত চরম তাপমাত্রা জনিত সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণহানির ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব

বিজ্ঞান ভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার হেলথ’-এ প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণাপত্রে জানানো হয়, এই মৃত্যুর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার ৬০০টি ঘটনার পেছনে সরাসরি দায়ী বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন। মূলত অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ পুরো বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে তাপপ্রবাহ আরও চরম আকার ধারণ করছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া বিষয়ক গবেষক এবং এই গবেষণার অন্যতম লেখক ক্লেয়ার বার্নস উল্লেখ করেছেন, ইউরোপের বিশাল এক এলাকায় ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা জনিত প্রাণহানি পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তুরস্কে জাতিসংঘের বাৎসরিক জলবায়ু সম্মেলন শুরুর কিছুদিন আগেই এই চাঞ্চল্যকর ডেটা সামনে এলো। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেকর্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকতে পারে।জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে।

ক্লেয়ার বার্নস আরও সতর্ক করে বলেন, চরম জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতি কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখনো অনেক পেছনে রয়ে গেছে। যদি দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হয় তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে যেসব মহাদেশ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে তার মধ্যে ইউরোপ শীর্ষে রয়েছে।

তাপমাত্রার বৈষম্য ও রেকর্ড পারদ

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ এখন প্রায় শেষ। গবেষণায় দেখা যায়, পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এবার প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি গরম রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট দেশে সাধারণ দিনের তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।