ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্ক

  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মুখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এখন প্রতীকটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বইয়ের ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে যেসব বই পৌঁছেছে, সেগুলো সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো প্রকার ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংগৃহীত বইগুলোতে প্রতীকটি পরিমার্জন করে পুনরায় শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়।

তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বই ছাপানো, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া এসব বই সংগ্রহ করে পুনরায় সংশোধন করতে হলে বেশ বড় অংকের বাড়তি ব্যয় এবং সময়ের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজে ধীরগতি থাকায়, নতুন করে এই সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রজ্ঞার স্তর বোঝাতে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছে। পিরামিডটির নিচের স্তরগুলোতে যথাক্রমে পাই চার্ট বা বৃত্তাকার প্রতীক, পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি মুদ্রণ করা হচ্ছে এবং সারা দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কার্যক্রম চলছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে পাঠ্যক্রমে নানা পরিবর্তন আসে।

এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ছিল। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা যে বইটি পড়ছে, তাতে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবিই ছিল। হঠাৎ করে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ফিরে আসার বিষয়টি রহস্য সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো সর্বজনস্বীকৃত ছবি নেই এবং ইতিহাস বা সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। সংশোধনের পর আইসিটি বইয়ের প্রজ্ঞার স্তরে নতুন কোন ছবি রাখা হবে, তা এখনো এনসিটিবি স্পষ্ট করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মুখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এখন প্রতীকটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বইয়ের ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে যেসব বই পৌঁছেছে, সেগুলো সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো প্রকার ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংগৃহীত বইগুলোতে প্রতীকটি পরিমার্জন করে পুনরায় শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়।

তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বই ছাপানো, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া এসব বই সংগ্রহ করে পুনরায় সংশোধন করতে হলে বেশ বড় অংকের বাড়তি ব্যয় এবং সময়ের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজে ধীরগতি থাকায়, নতুন করে এই সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রজ্ঞার স্তর বোঝাতে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছে। পিরামিডটির নিচের স্তরগুলোতে যথাক্রমে পাই চার্ট বা বৃত্তাকার প্রতীক, পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি মুদ্রণ করা হচ্ছে এবং সারা দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কার্যক্রম চলছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে পাঠ্যক্রমে নানা পরিবর্তন আসে।

এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ছিল। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা যে বইটি পড়ছে, তাতে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবিই ছিল। হঠাৎ করে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ফিরে আসার বিষয়টি রহস্য সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো সর্বজনস্বীকৃত ছবি নেই এবং ইতিহাস বা সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। সংশোধনের পর আইসিটি বইয়ের প্রজ্ঞার স্তরে নতুন কোন ছবি রাখা হবে, তা এখনো এনসিটিবি স্পষ্ট করেনি।