ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সৌদি আরবে আরামকোর স্থাপনায় ড্রোন হামলা: নিহত ২

  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় ফিলিপাইন ও নেপালের দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন।

বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার চালানো এই হামলায় ফিলিপাইনের একজন এবং নেপালের একজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের একজন ভারতীয় এবং অন্যজন পাকিস্তানি নাগরিক। যদিও হামলার পেছনে সরাসরি দায় স্বীকারের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রমণকারী ড্রোনটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, এর ধ্বংসাবশেষ স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে এ ধরনের হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেও হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংসের পর এর খণ্ডাংশের আঘাতে সৌদি প্রবাসী এক ইয়েমেনি নাগরিক প্রাণ হারান। চলতি মাসের শুরুর দিকে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা সামান্য অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হওয়ার পর থেকে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আকাশপথের সুরক্ষায়। নিরাপত্তার খাতিরে ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যানুসারে, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংঘাতের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আকাশপথের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি আরবে আরামকোর স্থাপনায় ড্রোন হামলা: নিহত ২

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার চালানো এই হামলায় ফিলিপাইনের একজন এবং নেপালের একজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের একজন ভারতীয় এবং অন্যজন পাকিস্তানি নাগরিক। যদিও হামলার পেছনে সরাসরি দায় স্বীকারের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রমণকারী ড্রোনটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, এর ধ্বংসাবশেষ স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে এ ধরনের হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেও হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংসের পর এর খণ্ডাংশের আঘাতে সৌদি প্রবাসী এক ইয়েমেনি নাগরিক প্রাণ হারান। চলতি মাসের শুরুর দিকে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা সামান্য অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হওয়ার পর থেকে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আকাশপথের সুরক্ষায়। নিরাপত্তার খাতিরে ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যানুসারে, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংঘাতের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আকাশপথের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।