ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু সৌদিতে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকর নিয়ে স্পষ্টীকরণ চাইল ঢাকা অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে জয়ের রথ থামল ম্যানচেস্টার সিটির ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচ ও খুচরা মূল্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, দিশেহারা খামারিরা শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে দুবাই বিমানবন্দরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ রংপুরে ‘শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন পরিষদ’ সমন্বয়ক আবু হানিফ গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের শীর্ষে

দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি নামে বিমানবন্দরের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার, ২১ অক্টোবর এই হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আগুন লেগে যায়। বিমানটি যেন আগুনের গ্রাসে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সুলতান ও তার সহকর্মীরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার সময় সুলতান বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছিলেন। অগ্নিনির্বাপণের কাজ শেষে অফিসে ফেরার পরপরই সুলতান বুকে তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। ধোঁয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সুলতানের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষাকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দিতেন। এই কঠিন বিপদের মুহূর্তে তিনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা বিমানবন্দর কর্মীদের আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। এদিকে, সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দাম্মাম বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ একজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, তবে হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সুলতানের মতো কর্মীদের এই আত্মত্যাগ এভিয়েশন খাতের দায়িত্বশীলতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ভূমিকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সুলতানের মৃত্যু তারই একটি উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি নামে বিমানবন্দরের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার, ২১ অক্টোবর এই হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আগুন লেগে যায়। বিমানটি যেন আগুনের গ্রাসে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সুলতান ও তার সহকর্মীরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার সময় সুলতান বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছিলেন। অগ্নিনির্বাপণের কাজ শেষে অফিসে ফেরার পরপরই সুলতান বুকে তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। ধোঁয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সুলতানের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষাকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দিতেন। এই কঠিন বিপদের মুহূর্তে তিনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা বিমানবন্দর কর্মীদের আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। এদিকে, সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দাম্মাম বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ একজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, তবে হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সুলতানের মতো কর্মীদের এই আত্মত্যাগ এভিয়েশন খাতের দায়িত্বশীলতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ভূমিকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সুলতানের মৃত্যু তারই একটি উদাহরণ।