নতুন যুগে ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গত সোমবার, ২৬ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং পুনরায় অকল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এটিই প্রথম বড় কোনো বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করল। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় উড়োজাহাজের শব্দ এবং রাতের ফ্লাইট পরিচালনায় সময়সীমার মতো বিষয়গুলো সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। পরে সেটি আবার অকল্যান্ডের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। পশ্চিম সিডনির দ্রুত সম্প্রসারিত অঞ্চলে বিমান চলাচলের চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চার দশকের দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল এই বিমানবন্দরটি সিডনির বর্তমান ব্যস্ততম কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দরের চাপ কমাতে সহায়ক হবে। কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দরে তিনটি রানওয়ে থাকলেও শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে ফ্লাইট চলাচলে সময়সীমা ও শব্দের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গত বছর সেখানে চার কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। বিপরীতে, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিমানবন্দরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধা থাকায় এয়ারলাইনগুলো বাড়তি নমনীয়তা পাবে বলে জানিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী সাইমন হিকি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর চালু হওয়া এই বিমানবন্দর সিডনির বিদ্যমান প্রধান বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। নতুন বিমানবন্দরটি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আকর্ষণ ঘুরে দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।
বিমানবন্দরটির উদ্বোধনী ফ্লাইটে অংশ নেওয়া এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেট বয়ার জানান, পশ্চিম সিডনির ২৫ লাখেরও বেশি বাসিন্দার জন্য এই বিমানবন্দরটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বর্তমানে জেটস্টার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভিয়েতজেট এয়ার, মার্চ মাসে ফিজি এয়ারওয়েজ এবং ডিসেম্বর মাসে কাতার এয়ারওয়েজের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম সিডনিতে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। প্রতিষ্ঠানটি গোল্ড কোস্ট, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন বাদে এই বিমানবন্দর নির্মাণে ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এই মেগা প্রকল্পটি পশ্চিম সিডনির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম গত জুলাই মাসে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল রোববার থেকে শুরু হয়েছিল।
























