রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে নতুন আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 7
টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা আসতেই ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে সৌদি আরবের রাজধানীর আকাশে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জরুরি মোবাইল সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে রিয়াদে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এএফপির একজন প্রতিনিধি জানান, ভোরের দিকে রিয়াদে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে বিমানবন্দরটি থেকে একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি সামরিক ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা তাদের দাবি বহাল রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, পাইপলাইন ও একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে কিং খালিদ বিমানবন্দরকে অনিরাপদ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে তা এড়িয়ে চলার হুমকি দিয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলে এর পরিণতির দায় সৌদি প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার সতর্কতা দেন।
চলতি মাসে এ ধরনের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার মক্কা ও মদিনার আকাশে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়েছে। যদিও পবিত্র এই দুই শহর লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগটি হুতিরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে চলতি মাসে বিমানবন্দরে এক প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন শহরেও সৌদি বাহিনীর একটি নৌঘাঁটি ও সামরিক শিবিরে হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে বিমানবন্দর সচল রাখার সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদে বিমান চলাচল কতটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
























