ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে ১৬ হাজার জেলের কপালে জোটেনি সরকারি চাল

  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। দীর্ঘ ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রার সহায়তায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৭ অক্টোবরের মধ্যেই এই চাল বিতরণের কথা থাকলেও ভোলার লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো বরাদ্দের চাল হাতে পাননি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। জেলেদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে প্রকৃত জেলে হিসেবে সরকারি সহায়তা পান না। তখন সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিরা জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। এনজিওর কিস্তি ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাদের। সরকার নির্ধারিত চাল সময়মতো না পাওয়ায় এই ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে। ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, শুধু চালের বিলম্ব নয়, বরং সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার বিষয়টিও তাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আবার চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। সময়মতো বরাদ্দের ওই চালগুলোও না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়তে হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালমোহনে মোট ২৪ হাজারের বেশি জেলে নিবন্ধিত থাকলেও এবারের ভিজিএফ সুবিধার জন্য ২১ হাজার জনের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চললেও অন্য ছয়টি ইউনিয়নের হাজার হাজার জেলে এখনো উপেক্ষিত। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং যাচাই-বাছাইয়ে জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে এবং খুব দ্রুত চাল বিতরণের আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, লালমোহনের ইউএনও মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন এই বিলম্ব হয়েছে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

লালমোহনে ১৬ হাজার জেলের কপালে জোটেনি সরকারি চাল

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। দীর্ঘ ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রার সহায়তায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৭ অক্টোবরের মধ্যেই এই চাল বিতরণের কথা থাকলেও ভোলার লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো বরাদ্দের চাল হাতে পাননি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। জেলেদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে প্রকৃত জেলে হিসেবে সরকারি সহায়তা পান না। তখন সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিরা জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। এনজিওর কিস্তি ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাদের। সরকার নির্ধারিত চাল সময়মতো না পাওয়ায় এই ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে। ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, শুধু চালের বিলম্ব নয়, বরং সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার বিষয়টিও তাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আবার চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। সময়মতো বরাদ্দের ওই চালগুলোও না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়তে হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালমোহনে মোট ২৪ হাজারের বেশি জেলে নিবন্ধিত থাকলেও এবারের ভিজিএফ সুবিধার জন্য ২১ হাজার জনের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চললেও অন্য ছয়টি ইউনিয়নের হাজার হাজার জেলে এখনো উপেক্ষিত। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং যাচাই-বাছাইয়ে জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে এবং খুব দ্রুত চাল বিতরণের আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, লালমোহনের ইউএনও মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন এই বিলম্ব হয়েছে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।