ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ও ফুটবলের আজকের ম্যাচ শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিলেন নেতানিয়াহু শত কোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের দুর্নীতির পাহাড় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: নামকরণের প্রেক্ষাপট ও ভারত-বাংলাদেশ উপকূলে বর্তমান প্রভাব এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বৃহস্পতিবার শুনানি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ শিশুদের চেয়ে বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ল চীনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মিরপুরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে ফেরেননি মুশফিক

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি

  • আপডেট সময় : ১১:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢামেক শাখার ডাকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। বিশেষ করে, মুমূর্ষু রোগী স্থানান্তর ও মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সংকটে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর আগে সোমবার হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরে স্থায়ী পার্কিং ও সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন সংগঠনের একাংশের সদস্যরা।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, এতদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পার্কিং করে তাঁরা রোগীদের সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাইরের সড়কে রাখতে হচ্ছে। এতে পুলিশের সঙ্গেও নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পার্কিং সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের প্রথা বহাল রাখার দাবিতেই মূলত এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জায়গার তীব্র সংকটের কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। জরুরি বিভাগের সামনের চত্বরে যানজট নিরসন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের স্বজনদের বিড়ম্বনা কমাতে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থানে নিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো শুধু রোগী নামিয়ে দিয়েই চত্বর ছেড়ে যাবে। প্রয়োজনে রোগী বহনের জন্য পুনরায় প্রবেশের অনুমতি পাবে। এছাড়া, অতীতে জরুরি বিভাগের সামনে মালিক সমিতিকে বরাদ্দ দেওয়া একটি অস্থায়ী কক্ষও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের স্বজনদের জন্য অপেক্ষার জায়গা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে রোগী বহনের জন্য আবার প্রবেশ করতে পারবে।

পরিচালক আরও জানান, রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট চালানো বা সড়কে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় দালাল চক্র রোগী ও স্বজনদের প্রতারিত করে। নতুন এই শৃঙ্খলার মাধ্যমে সেই দুর্ভোগ কমানোরও চেষ্টা করছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক আলোচনার ভিত্তিতেই পার্কিংয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পরিচালক জানান, হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা বাইরে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ১১:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢামেক শাখার ডাকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। বিশেষ করে, মুমূর্ষু রোগী স্থানান্তর ও মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সংকটে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর আগে সোমবার হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরে স্থায়ী পার্কিং ও সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন সংগঠনের একাংশের সদস্যরা।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, এতদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পার্কিং করে তাঁরা রোগীদের সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাইরের সড়কে রাখতে হচ্ছে। এতে পুলিশের সঙ্গেও নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পার্কিং সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের প্রথা বহাল রাখার দাবিতেই মূলত এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জায়গার তীব্র সংকটের কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। জরুরি বিভাগের সামনের চত্বরে যানজট নিরসন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের স্বজনদের বিড়ম্বনা কমাতে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থানে নিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো শুধু রোগী নামিয়ে দিয়েই চত্বর ছেড়ে যাবে। প্রয়োজনে রোগী বহনের জন্য পুনরায় প্রবেশের অনুমতি পাবে। এছাড়া, অতীতে জরুরি বিভাগের সামনে মালিক সমিতিকে বরাদ্দ দেওয়া একটি অস্থায়ী কক্ষও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের স্বজনদের জন্য অপেক্ষার জায়গা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে রোগী বহনের জন্য আবার প্রবেশ করতে পারবে।

পরিচালক আরও জানান, রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট চালানো বা সড়কে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় দালাল চক্র রোগী ও স্বজনদের প্রতারিত করে। নতুন এই শৃঙ্খলার মাধ্যমে সেই দুর্ভোগ কমানোরও চেষ্টা করছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক আলোচনার ভিত্তিতেই পার্কিংয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পরিচালক জানান, হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা বাইরে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন।