পাবনায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে দুই নেতাকে মৃত্যুর ঘটনায়
- আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
পাবনার আতাইকুলা থানায় পুষ্পপাড়া হাটের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—শ্রমিক লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সদর উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুস সালাম (৫৭) এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৩৫)। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগিনা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় আব্দুস সালাম নিজ অফিসে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় মুখোশধারী ৫ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল অফিসে অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা সালামকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রিপন হোসেনকেও গুলি করা হয়। হামলা শেষে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুস সালামের বাবা আরজ আলী এবং রিপনের বাবা মেম্বর ওমেদ আলী; তারা উভয়েই পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তিনি জানিয়েছেন, পুষ্পপাড়া গরুর হাটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক আধিপত্য ও বিরোধের কারণেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আব্দুস সালাম গত সাত বছর ধরে এই হাটের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া সালামের বড় ভাই পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত পুষ্পপাড়া হাটের বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবেও এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তজনা বিরাজ করছে। আতাইকুলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানিয়েছেন, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ করছে।

























