গাজার শিশুদের সহায়তায় এক লাখ পাউন্ড সংগ্রহ করলেন হামজা চৌধুরী
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাহত ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। যুক্তরাজ্যের নজুম স্পোর্টসের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত একটি দাতব্য অনুষ্ঠান থেকে তিনি এক লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে এই মানবিক উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে মানবিক এই কার্যক্রমের বাইরে মাঠের খেলায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন হামজা।
গত রোববার টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে নজুম স্পোর্টসের উদ্যোগে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা নজুম স্পোর্টস মূলত পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নে কাজ করে থাকে। অনুষ্ঠানে হামজাকে নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি মুসলিম অ্যাথলেটদের ব্যবহৃত জার্সি ও বিভিন্ন স্মারকের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে লেস্টার সিটির হয়ে জেতা হামজার এফএ কাপজয়ী জার্সি সাত হাজার পাউন্ড এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদক তিন হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। নিলামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে জেতা ট্রফি ও স্মারকগুলো।
সংগৃহীত পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি সংস্থাকে প্রদান করা হবে। হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, এই অর্থ গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, যেসব শিশুর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা বা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর প্রয়োজন, তাদের সহায়তায় এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। স্বল্প সময়ে সংগৃহীত এই অর্থ গাজার বিশাল দুর্ভোগের তুলনায় সামান্য মনে হলেও প্রতিটি প্রচেষ্টাই একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব শিশুর অনেকের জন্যই চিকিৎসার্থে বিদেশ বা নিরাপদ স্থানে যাওয়া এবং বেঁচে থাকা এখন একমাত্র আশা। সংগৃহীত সব অর্থই এমন শিশুদের চিকিৎসার্থে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হবে, যাদের এটি অত্যন্ত প্রয়োজন।’। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হামজা আরো যোগ করেন, ‘স্বল্পসময়ের মধ্যে এ আয়োজনের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ ও বিনীত বোধ করলেও জানি, এত বিশাল দুর্ভোগের বিপরীতে এটি অত্যন্ত সামান্য একটি অবদান মাত্র। এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে; তবে প্রতিটি চেষ্টাই—তা যত ছোটই হোক না কেন, পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।’।
মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন হামজা। আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে দলের সাথে পাওয়ার আশা রয়েছে। বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি জানিয়েছেন, ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হামজা খেলতে না পারলেও ৯ নভেম্বর জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন তিনি। সব ঠিক থাকলে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

























