ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন বিমানবন্দরে বাড়ছে সোনা চোরাচালান, নেপথ্যের কারিগররা অধরা আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নেপাল গেলেন রাবির ৫ শিক্ষার্থী ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ভোলায় অনুষ্ঠিত কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ শীতের সবজির দামে নাভিশ্বাস, চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াল সালামএয়ার শেরেবাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: তদন্তে তথ্য দিলেন বন্ধু সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে মিছিল, গ্রেপ্তার ৩ জন বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান

ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা

  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে আসার পর এখন দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, কিন্তু কোনো দলই এককভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা কিংবা নতুন কাউকে মসনদে বসাতে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এখন রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ব্যস্ত। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয়ের জন্যই নতুন সরকার গঠনের পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন বড় ধরনের সমঝোতায় আসতে হবে, যা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। যদি দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তবে আগামী বছরের শুরুতেই দেশটিকে হয়তো আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। আর সেই নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই ক্ষমতায় বহাল থাকবে। তবে পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হলেও কে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো নতুন সরকার তৈরিতে ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। গাদি আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করেন, তবে তার পক্ষে ৬৭ আসনের শক্তিশালী একটি জোট তৈরি করা সহজ হতে পারে। তবে আইজেনকোট ও তার ইহুদি মিত্রদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক, যাদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে না। ২০২১ সালে একটি আরব দল জোট সরকারে যোগ দিলেও সেই সরকার মাত্র ১৮ মাস টিকেছিল। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই এ ধরনের জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে যে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক এসেছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু নিজেও আইজেনকোটের শিবির ভেঙে ডানপন্থী নেতাদের নিজের পক্ষে আনার কৌশল নিচ্ছেন। তিনি নাফতালি বেনেট কিংবা অবিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের দলে টানার চেষ্টা করতে পারেন। এমনটি সফল হলে নেতানিয়াহু ৬৭ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন, যেখানে আরব দলগুলোসহ অতি-অর্থোডক্স ও উগ্র-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিরোধী দলে চলে যাবে। তবে এই পরিকল্পনায় বড় বাধা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে আইজেনকোট এবং তার সহযোগীরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনোভাবেই সরকারে বসবেন না। এছাড়া বিরোধী জোটের ভোটারদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় তদন্ত, যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার কখনোই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে এই জোটের জন্য নেতানিয়াহুকে তার দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্রদেরও ত্যাগ করতে হবে। তারা অধিকৃত অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ নীতি সমর্থন করায় আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধা তাদের জন্য কঠিন, কিন্তু একই সাথে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিনের চরম ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে অতি-অর্থোডক্সদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বেনেট ও লিবারম্যান চরম বিরোধী। এই অন্তর্বর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

আইজেনকোটের শিবির থেকে কাউকে ভাঙিয়ে আনা আপাতত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ নেতানিয়াহুর দলের সদস্যরা তার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইল আবার নির্বাচনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা ২০১৯ সালের পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। উল্লেখ্য, সেই সময়েও চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদের জন্য নতুন নির্বাচন বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কারণ বিদেশ থেকে আগত ভোটারদের দ্বিতীয়বার আসার সম্ভাবনা কম এবং এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু তার জোটকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে আসার পর এখন দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, কিন্তু কোনো দলই এককভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা কিংবা নতুন কাউকে মসনদে বসাতে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এখন রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ব্যস্ত। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয়ের জন্যই নতুন সরকার গঠনের পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন বড় ধরনের সমঝোতায় আসতে হবে, যা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। যদি দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তবে আগামী বছরের শুরুতেই দেশটিকে হয়তো আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। আর সেই নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই ক্ষমতায় বহাল থাকবে। তবে পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হলেও কে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো নতুন সরকার তৈরিতে ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। গাদি আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করেন, তবে তার পক্ষে ৬৭ আসনের শক্তিশালী একটি জোট তৈরি করা সহজ হতে পারে। তবে আইজেনকোট ও তার ইহুদি মিত্রদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক, যাদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে না। ২০২১ সালে একটি আরব দল জোট সরকারে যোগ দিলেও সেই সরকার মাত্র ১৮ মাস টিকেছিল। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই এ ধরনের জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে যে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক এসেছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু নিজেও আইজেনকোটের শিবির ভেঙে ডানপন্থী নেতাদের নিজের পক্ষে আনার কৌশল নিচ্ছেন। তিনি নাফতালি বেনেট কিংবা অবিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের দলে টানার চেষ্টা করতে পারেন। এমনটি সফল হলে নেতানিয়াহু ৬৭ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন, যেখানে আরব দলগুলোসহ অতি-অর্থোডক্স ও উগ্র-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিরোধী দলে চলে যাবে। তবে এই পরিকল্পনায় বড় বাধা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে আইজেনকোট এবং তার সহযোগীরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনোভাবেই সরকারে বসবেন না। এছাড়া বিরোধী জোটের ভোটারদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় তদন্ত, যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার কখনোই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে এই জোটের জন্য নেতানিয়াহুকে তার দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্রদেরও ত্যাগ করতে হবে। তারা অধিকৃত অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ নীতি সমর্থন করায় আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধা তাদের জন্য কঠিন, কিন্তু একই সাথে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিনের চরম ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে অতি-অর্থোডক্সদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বেনেট ও লিবারম্যান চরম বিরোধী। এই অন্তর্বর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

আইজেনকোটের শিবির থেকে কাউকে ভাঙিয়ে আনা আপাতত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ নেতানিয়াহুর দলের সদস্যরা তার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইল আবার নির্বাচনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা ২০১৯ সালের পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। উল্লেখ্য, সেই সময়েও চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদের জন্য নতুন নির্বাচন বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কারণ বিদেশ থেকে আগত ভোটারদের দ্বিতীয়বার আসার সম্ভাবনা কম এবং এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু তার জোটকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবেন।