ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট: কেন এখনো অনিশ্চিত যাত্রা?
- আপডেট সময় : ০৯:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা দীর্ঘ দিন ধরেই ঝুলে আছে। যদিও আগামী বছর এই রুট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার এবং এর অংশ হিসেবে ২৫টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে, তবুও ফ্লাইট চালুর অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। মূল বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা। এই মর্যাদা ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না। এদিকে দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের আগের নির্ধারিত অবতরণ ও উড্ডয়নের স্লটও হারিয়ে গেছে।
ফ্লাইট বন্ধের ইতিহাস বেশ পুরনো। লোকসানের কারণ দেখিয়ে ২০০৬ সালেই এই রুটে চলাচল বন্ধ করে দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সময়ে এফএএ-এর মূল্যায়নে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্যাটাগরি-২-এ অবনমিত হয়। দুই দশক পার হতে চললেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়নি। ফলে নিউইয়র্কে বসবাসরত দুই লাখসহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের অন্য দেশের ট্রানজিট নিয়ে প্রায় ২৫ ঘণ্টা দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হয়। নতুন করে এসব স্লট পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
ক্যাটাগরি-১ অর্জনের পথটিও বেশ সুনির্দিষ্ট। এজন্য বাংলাদেশকে দুটি প্রধান ধাপ পার হতে হবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) পৃথক মূল্যায়নের বাধা পেরোতে হবে। বর্তমানে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইকাওর অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়েও তৎপরতা চলছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই রুট চালুর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনা বা বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তদারকি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।
মেক্সিকো, থাইল্যান্ড ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে। একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও যদি নিরাপত্তা ও পরিচালনা মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, তবেই এই রুট পুনরায় চালুর সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে। আপাতত সেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।





















