প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে বিলম্ব: বিমানের সক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহনকারী উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়লে ফ্লাইটটিতে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় টোকিও’র নারিতা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে ককপিটে উড়োজাহাজের স্পয়লারে ত্রুটির সংকেত পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত বিমানের প্রকৌশলী ও জাপানি প্রযুক্তিবিদদের যৌথ চেষ্টায় ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হয়। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে বিমানটি যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয় এবং পৌনে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
ঢাকা-নারিতা রুটে গত ২৭ জুলাই পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান। শুরুর দিকে সপ্তাহে একদিন চললেও ২৯ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এই নতুন রুটে উড্ডয়নের শুরুতেই এমন যান্ত্রিক জটিলতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সামগ্রিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে এত বড় বহর পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও সরকার বিশাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি বোয়িংয়ের সাথে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রী চাহিদা, দূরপাল্লার রুটের প্রয়োজন ও ফ্লাইটের সংখ্যা বিশ্লেষণ করেই এই বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানের বহর ২০০টির বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বোয়িংয়ের সঙ্গে গত এপ্রিলে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়।
তবে বিদ্যমান ১৯টি উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেই হিমশিম খাচ্ছে বিমান, যেখানে জনবল, আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি উড়োজাহাজে ইঞ্জিনের সমস্যা ও জরুরি অবতরণের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে বিমানের আট হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া থাকলেও কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফার হিসাব দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে বিমান খাতের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং কার্যকর ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নতুন উড়োজাহাজগুলো দেশের জন্য সম্পদ না হয়ে বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
























