নড়াইলে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিবাদ সভা

ফ্রান্স ব্যুরোঃ

নড়াইলে লোহাগড়ায় বাড়িঘর. দোকানপাট ও মন্দিরে লুটপাট ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে প্যারিসে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


গত রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ফ্রান্স শাখার আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ফ্রান্স শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফ্রেঞ্চ বাংলা স্কুলের পরিচালক ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সহ-সভাপতি ফাতেমা খাতুন, কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সম্মানিত সদস্য জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক শিমু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াছিন হক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নুরুন নাহার নিপা, সাংস্কৃতিক ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান, সম্মানিত সদস্য মোঃ মামুন মিয়া, মোঃ সাব্বির হোসেন ও সাগর দেব সহ আরো অনেকে।

মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ফ্রান্স শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল

মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ফ্রান্স শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী মহল এখনোও সক্রিয়, তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী সমাজবিরোধী কর্মের সাথে যুক্ত। নড়াইলের ঘটনা এর বাইরে বিষয় নয়। এতে করে আমাদের দেশ মনস্তাত্বিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন আজকের এই প্রতিবাদ সভা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত কোনো সভা নয় বরং এটি একটি মানবতাবাদী চর্চা ও পদক্ষেপ।”

তিনি আরো বলেন, “ধর্ম, নৃগোষ্ঠী, বর্ণ বা মানবতাবিরোধী যেকোনো ক্ষয়িষ্ণু চিন্তার ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদের এইসব মানবতা বিরোধী পদক্ষেপ শুধু নড়াইলেই নয় বরং সারা বিশ্বে মানবতাবিরোধী যত কাজকর্ম চলছে আমরা এই প্রতিবাদ সভা থেকে তার দৃঢ় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি এর প্রতিকার হিসাবে তিনি মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করার লক্ষ্যে মানবিকতার ভিত্তিতে সম্প্রীতিকেই প্রধান সমাধান হিসাবে উল্ল্যেখ করেন এবং সকল মানবিক মানুষকেই এগিয়ে এসে ব্যাপক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।


এছাড়া অন্যান্য বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে অনতিবিলম্বে বিভিন্ন দলের ভিতরে ও সমাজে আইন করে সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নিষিদ্ধ , দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যাস্বল্প মানুষের জন্য সরকার কে মন্ত্রণালয় চালুকরে তাদের স্বার্থ রক্ষা ও আইন সংস্কারের দাবী জানান। বক্তারা যে কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে বা হামলাকারীদের বিচার দ্রুত বিচার আইন প্রয়োগ-এর মাধ্যমে দুস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, “আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মূল্যবোধ ও মানবিকতার বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় ও প্রণোদনায় দেশের ৬৪ জেলার পাড়ায় পাড়ায় সম্প্রীতির সেল গঠন করতে হবে যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূরক হাজার বছরের বাংলাশিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিপূরক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সৃষ্টি করতে হবে।”

সকলেই এই কাজে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারকেই নেতৃত্ব দেবার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেন।

বিডিসংবাদ/এএইচএস