ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ পহেলা বৈশাখ : বাংলা ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন

  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 55
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।

পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও শোককে বিদায় জানিয়ে শুরু হয়েছে নতুন প্রাণের উৎসব- ‘পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ’। হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এ দিনটি এখন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশি একযোগে মেতে উঠেছেন বর্ষবরণের আনন্দে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি, ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতি, ধর্ম ও বর্ণেও ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

তিনি বলেন, বৈশাখি মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে ছায়ানটের আয়োজনে রমনা বটমূলে বর্ষ বরন অনুষ্ঠান। ছবি : বাসস
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে ছায়ানটের আয়োজনে রমনা বটমূলে বর্ষ বরন অনুষ্ঠান। ছবি : বাসস

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলাও মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে উদযাপন করছে দিনটি। বসেছে বৈশাখী মেলা। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। লোক-ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা তুলে ধরে এতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ প্রতিপাদ্যে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করছেন বর্ষবরণের গান, যা এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

উদীচী সকাল থেকে তোপখানা রোডে গান, কবিতা, আড্ডা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করছে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ’।

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে। সদস্য, তাদের পরিবার ও অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার নানা আয়োজন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায়ও নানা আয়োজনে মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ পহেলা বৈশাখ : বাংলা ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন

আপডেট সময় : ১২:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।

পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও শোককে বিদায় জানিয়ে শুরু হয়েছে নতুন প্রাণের উৎসব- ‘পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ’। হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এ দিনটি এখন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশি একযোগে মেতে উঠেছেন বর্ষবরণের আনন্দে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি, ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতি, ধর্ম ও বর্ণেও ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

তিনি বলেন, বৈশাখি মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে ছায়ানটের আয়োজনে রমনা বটমূলে বর্ষ বরন অনুষ্ঠান। ছবি : বাসস
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে ছায়ানটের আয়োজনে রমনা বটমূলে বর্ষ বরন অনুষ্ঠান। ছবি : বাসস

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলাও মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে উদযাপন করছে দিনটি। বসেছে বৈশাখী মেলা। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। লোক-ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা তুলে ধরে এতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ প্রতিপাদ্যে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করছেন বর্ষবরণের গান, যা এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

উদীচী সকাল থেকে তোপখানা রোডে গান, কবিতা, আড্ডা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করছে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ’।

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে। সদস্য, তাদের পরিবার ও অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার নানা আয়োজন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায়ও নানা আয়োজনে মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।

বিডিসংবাদ/এএইচএস