ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি
- আপডেট সময় : ১০:১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 2
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে মিখাইলো দ্রাপাতির নাম ঘোষণা করেছেন। তরুণ সংস্কারপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আকস্মিকভাবে অপসারণের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই এ ঘোষণা আসে।
৬০ বছর বয়সী ওলেক্সান্দর সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতি দায়িত্ব নিচ্ছেন । সিরস্কি দক্ষ সামরিক কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত হলেও সোভিয়েতধারার পদ্ধতি অনুসরণ এবং সেনাসদস্যদের প্রাণহানির বিষয়ে উদাসীন থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন সমালোচিত ছিলেন।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দ্রাপাতি সম্পর্কে যা জানা গেছে :
-রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই-
দ্রাপাতি পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা। তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী ইউক্রেনের নিজস্ব সামরিক ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পান। ২০১৪ সালে রাশিয়াসমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি যুদ্ধযান চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোল শহরে মস্কোপন্থি বাহিনীর তৈরি অস্থায়ী ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্রাপাতি সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, তার চালক জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘মেজর, সামনে ব্যারিকেড। আমরা কী করব?’ তিনি জবাব দিয়েছিলেন, গতি বাড়াও।
এরপর ওপরের অংশে ইউক্রেনের নীল-হলুদ পতাকা লাগানো যুদ্ধযানটি টায়ার ও ব্যারিকেডের দেয়াল ভেঙে লাফিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
মস্কোপন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুশ নিয়ন্ত্রণ থেকে কয়েকটি জনপদ পুনর্দখলের কৃতিত্বও তার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তার ইউনিটকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা থেকেও রক্ষা করেছিলেন।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দ্রাপাতির স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
-সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তরের’ সমর্থক-
দ্রাপাতিকে সর্বসম্মত ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে দেখা হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে তার সুনাম রয়েছে। তার পূর্বসূরিকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা প্রায়ই দ্রাপাতির নামকে বিকল্প হিসেবে স্লোগানে তুলে ধরতেন।
পরিচিত মুখ হলেও তিনি সব সময় প্রচারের আড়ালে থেকেছেন। অন্য অনেক ইউক্রেনীয় কমান্ডারের তুলনায় খুব কমই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক রুশ হামলার পর ২০২৫ সালের জুনে তিনি স্থলবাহিনীর কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ভুলের দায় স্বীকারে প্রস্তুত একজন কমান্ডার হিসেবে এই পদক্ষেপ তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হই, দায়িত্ব পালনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করি এবং নিজেদের ভুল স্বীকার না করি, তাহলে আমাদের পরিণতি ধ্বংস।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কো বুধবার এএফপিকে বলেন, ‘এই ঘটনাই তার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং শক্তিশালী নৈতিক মানদণ্ডের পরিচয় দেয়।’
পরে দ্রাপাতিকে ইউক্রেনের যৌথ বাহিনীর কমান্ডের প্রধান করা হয়। সেখান থেকে তিনি সামরিক ব্যবস্থার সংস্কারে কাজ করেন।
গত সপ্তাহে সংস্কারপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভকে অপসারণের পর দ্রাপাতি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর’ অব্যাহত রাখতে হবে।
বিরল এক প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত যদি ব্যবস্থার কারণে নয়, বরং ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যবস্থাটিরই পরিবর্তন প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনীর নতুন নিয়ম প্রয়োজন।’
-‘নতুন আশার’ প্রতীক-
সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে অনেকেই তার নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী অন্যতম বৃহৎ দাতব্য সংস্থার প্রধান সের্গেই প্রিতুলা বলেন, এই নিয়োগ ‘দারুণ খবর।’
অপসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তার মিত্র ফেদোরভ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এটি মুক্ত মানুষের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে এক ঝলক নির্মল বাতাস এবং নতুন আশা।’
মস্কোয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই পরিবর্তনে যুদ্ধের গতিপথে কোনো প্রভাব পড়বে না।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি না, এতে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস



















