ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট
- আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ইউরোপজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে অন্তত ৩০টি ফ্লাইটের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এসব সতর্কবার্তার কারণে অনেক বিমানকে মাঝপথে গন্তব্য পরিবর্তন করে অন্য বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়। ৫ নভেম্বর ইতালি, বুলগেরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ মোট ২৭টি বিমান এই পরিস্থিতির শিকার হয়। এর আগে ৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফ্লাইটসহ অন্তত সাতটি বিমান ও একটি প্রমোদতরী একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া সার্বিয়া ও ফিনল্যান্ডের ফ্লাইটগুলোকেও পথ পরিবর্তন বা জরুরি অবতরণের মতো পদক্ষেপ নিতে হয়।
বিমান চলাচলের পাশাপাশি ৬ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আরটিই, যুক্তরাজ্যের স্কাই এবং বুলগেরিয়ার নোভা টিভিসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও হামলার হুমকির কবলে পড়ে। ইমেইলের মাধ্যমে আসা এসব সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। আয়ারল্যান্ডের আরটিই সদর দপ্তরে পুলিশ তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিবিড় তল্লাশি চালায়, এই সময়ে নিয়মিত অনুষ্ঠানের বদলে আগে থেকে ধারণকৃত সংগীত ও বার্তা প্রচার করা হয়। বুলগেরিয়ার নোভা টিভির কার্যালয়েও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তবে কোথাও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
এসব ঘটনার যোগসূত্র বা এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন জানিয়েছেন, এই হুমকিগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি কোনো সমন্বিত অভিযানের অংশ, সেটি তদন্তসাপেক্ষ। একই সুর শোনা গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস সিটজিকোস্টাসের কণ্ঠে; তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমানে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম সক্রিয় করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফিলিপ বাউমের মতে, প্রতিটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এই ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি খরচ, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, পরিচালনা ব্যয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থার খরচ অন্তর্ভুক্ত। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সব বিমান নিরাপদে অবতরণে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
























