ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলা অব্যাহত
- আপডেট সময় : ১০:০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের এই অঞ্চলগুলোতে আচমকা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, কোনো হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু মার্কিন বাহিনী ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব সামরিক কার্যক্রমকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানি বাহিনীর জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত করতেই এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিশ্চিত করেছে যে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ উপকূলের কাছে সমুদ্র থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। এ লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা সহজতর করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি দোহা সফর করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নাকচ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল এবং আমরা জিতেছি। এটি আদৌ যুদ্ধ কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে, কারণ গত কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো সরাসরি লড়াই করছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যখন উভয় পক্ষ একে অপরের স্থাপনায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দেয়। ওই চুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকায় তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
























