ইসরায়েলের সাথে ৮ হাজার কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ভারত
- আপডেট সময় : ০৬:০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশপথে দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ছয়টি জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ বা এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি করার পথে এগিয়েছে ভারত। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড’ (HAL) যৌথভাবে কাজ করবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই পরিকল্পনার আওতায় মোট ছয়টি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৬৭ যাত্রীবাহী বিমান ক্রয় করা হবে। পরবর্তীতে সেগুলোকে অত্যাধুনিক জ্বালানি ট্যাঙ্কারে রূপান্তর করা হবে, যেখানে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ দেশটির অভ্যন্তরেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড উড়োজাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে, যা স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এর ফলে প্রকল্পে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে সোভিয়েত আমলের ছয়টি ইলিউশিন আইএল-৭৮ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ২০০৩ সালে প্রথম যুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এই উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া বিমানবাহিনীর বর্তমান চাহিদার তুলনায় বিদ্যমান ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজের সংখ্যাও অপ্রতুল। আকাশপথে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকলে যুদ্ধবিমানগুলো বারবার ঘাঁটিতে না ফিরে দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে দূরপাল্লার অভিযান ও আকাশ প্রতিরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ সংগ্রহ এবং সেগুলোকে সামরিক ট্যাঙ্কারে রূপান্তরের এই পুরো বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ের চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের বিমানবাহিনীর পুরোনো জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজের একটি কার্যকর ও আধুনিক বিকল্প সক্ষমতা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ কেনা ও সেগুলোকে ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজে রূপান্তরের পরিকল্পনাটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর।























