ইসরায়েলে ক্ষমতা ভাগাভাগির গুঞ্জনে তোলপাড়, নাকচ করল রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
- আপডেট সময় : ১০:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটির মোট ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। চ্যানেল ১২-এর তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো দল বা জোটই এই লক্ষ্যপূরণে সক্ষম হয়নি। তবে বিশেষ ভোট—অর্থাৎ সেনাবাহিনী, বন্দি, কূটনীতিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ভোটের ফলাফল এখনো বাকি রয়েছে, যা আসনসংখ্যার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। সেনাসদস্য, কারাবন্দি, কূটনীতিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভোটারদের দেওয়া ভোট এ গণনার অন্তর্ভুক্ত।
এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন। এমনকি ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নেতানিয়াহু প্রথমে দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী হতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে আসন বণ্টনের বর্তমান চিত্র অপরিবর্তিত থাকলে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সুযোগ থাকতে পারে।
চ্যানেলটির দাবি, গত ২৮ অক্টোবর প্রচারিত প্রতিবেদনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। যদিও এই খবর প্রকাশের পরপরই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কঠোর ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্যালয়টির দাবি, এই ধরনের কোনো আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনো চূড়ান্ত ফলাফল প্রেসিডেন্টের কাছে এসে পৌঁছায়নি। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রচারিত এক প্রতিবেদনে চ্যানেলটি জানায়, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এই সমঝোতার প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত দুই বছর ধরে এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৭.১ শতাংশ বেশি। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি বলে জানানো হয়েছে।













