ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কখন রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়?

  • আপডেট সময় : ০৭:২০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
  • / 235
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ-স্বাভাবিক মুসলমানের জন্য রমজানের রোজা রাখা ফরজ। তবে বিশেষ কোনো কারণে রোজা রাখতে অপারগ হলে শর্তসাপেক্ষে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করার অনুমতি আছে। সেই রোজা রমজান পরবর্তী সময়ে কাজা আদায় করতে হবে। তেমনিভাবে শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া কেউ রোজা ভঙ্গ করলে তার জন্য কাফফারাও আবশ্যক হয়ে যায়। নিচে রোজার কাজা ও কাফফারার বিধান বিবৃত হলো—

যখন শুধু কাজা আদায় করতে হবে

এক
কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা না রাখলে বা অনিচ্ছায় ভেঙে ফেললে অথবা কোনো শরিয়ত অনুমোদিত অপারগতার কারণে ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

দুই
মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখতে কষ্ট হলে, অনুরূপ গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি নিজের বা শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে রমজানে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে নিতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫, সুনানে তিরমিজি হাদিস : ৭১৫)

তিন
মাসিক ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসবকালীন স্রাবের সময় রোজা রাখা জায়েজ নেই। তবে ওই দিনগুলোর কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা আদায় করতে হবে না। রোজা রাখার পর দিনের বেলায় (ইফতারের সময় হওয়ার আগে পর্যন্ত) যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব শুরু হয়, তার রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করে দিতে হবে।

চার
যে নারী ঋতুস্রাবের কারণে রোজা রাখেননি, দিনের যে সময়ে তার স্রাবের সময় শেষ হবে, তখন থেকেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে রোজাদারের মতো দিনের অবশিষ্ট অংশ অতিবাহিত করবেন এবং পরে ওই দিনের রোজা কাজা করে নেবেন। (আল-লুবাব: ১ / ১৭৩)

যাদের কাজা আদায় করতে হবে না
নাবালেগ (শরিয়তের দৃষ্টিতে সাবালক হয়নি) বা শিশুদের রোজা রাখা ফরজ নয়, তবু তারা নিজেদের আগ্রহে ও বড়দের উৎসাহে রোজা রাখে। তারা যদি রোজা রেখে কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনোভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তাদের এই রোজার কাজা বা কাফফারা কোনোটিই লাগবে না। এরপরও যদি তারা বড়দের সাথে কাজা রোজা রাখতে শুরু করে এবং তা আবার ভেঙে ফেলে, তারও কাজা লাগবে না। (আল-হিদায়া)

রোজার কাফফারা আদায় করতে হবে যাদের
শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে তার জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়টিই আবশ্যক। তবে পানাহার ও সহবাস ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ইচ্ছাকৃত ভাঙলে কাফফারা দিতে হবে না, শুধু কাজা করতে হবে। (মাবসুতে সারাখসি: ৩ / ৭২)

কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
কাফফারা তিনভাবে আদায় করা যায়। প্রথমত, একজন দাস মুক্ত করা; দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা পালন করা এবং তৃতীয়ত, ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।

রোজার কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা আদায় করা। আর একটি কাজার বিপরীতে কাফফারা হলো ৬০টি রোজা অতিরিক্ত আদায় করা।

এভাবে অনুমোদিত কারণ ছাড়া যে কয়টি রোজা ভাঙবে, প্রতিটির পরিবর্তে একটি করে কাজা এবং তার সাথে যুক্ত হবে একটি কাফফারা (অর্থাৎ ৬০টি রোজা)।

একই রমজানে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক রোজা ভাঙলে এক কাফফারাই (৬০ রোজা) যথেষ্ট হবে। সে হিসাবে একটি রোজা যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভাঙলে তার জন্য কাজা ও কাফফারা হবে ৬১টি রোজা, দুটি ভাঙলে হবে ৬২টি রোজা, তিনটি ভাঙলে হবে ৬৩টি রোজা।

কাজা ও কাফফারাসহ মোট ৬১ বা তার বেশি হলে কমপক্ষে ৬১টি রোজা একটানা আদায় করতে হবে। এর মাঝে বিরতি হলে বা ভাঙলে আরেকটি কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৬১টি রোজা পূর্ণ হওয়ার আগে বিরতি হলে আবার নতুন করে এক থেকে শুরু করে ৬১টি পূর্ণ করতে হবে। তবে নারীরা ঋতু স্রাবের সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে পারবেন। এই রোজাগুলো নফল পরিগণিত হবে।

রোজার কাফফারা যদি কেউ ৬০টি রোজার মাধ্যমে আদায় করতে না পারেন, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খাওয়াবে। অথবা প্রতি মিসকিনকে এক ফিতরা পরিমাণ সম্পদ দেওয়ার মাধ্যমেও কাফফারা আদায় করা যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২ / ১০১, রদ্দুল মুহতার: ২ / ৪১৩)

৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খাবার খাওয়ানোর পরিবর্তে প্রত্যেককে এক ফিতরা পরিমাণ খাবার দেয়া যেতে পারে। একজন গরিবকে প্রতিদিন এক ফিতরা পরিমাণ করে ৬০ দিন দিলে বা খাবার খাওয়ালেও কাফফারা আদায় হবে। ৬০ দিনের ফিতরা পরিমাণ খাবার একবারে একজনকে দিলে কাফফারা আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১ / ৫১৩, রদ্দুল মুহতার ৩ / ৪৭৮)

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কখন রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়?

আপডেট সময় : ০৭:২০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ-স্বাভাবিক মুসলমানের জন্য রমজানের রোজা রাখা ফরজ। তবে বিশেষ কোনো কারণে রোজা রাখতে অপারগ হলে শর্তসাপেক্ষে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করার অনুমতি আছে। সেই রোজা রমজান পরবর্তী সময়ে কাজা আদায় করতে হবে। তেমনিভাবে শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া কেউ রোজা ভঙ্গ করলে তার জন্য কাফফারাও আবশ্যক হয়ে যায়। নিচে রোজার কাজা ও কাফফারার বিধান বিবৃত হলো—

যখন শুধু কাজা আদায় করতে হবে

এক
কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা না রাখলে বা অনিচ্ছায় ভেঙে ফেললে অথবা কোনো শরিয়ত অনুমোদিত অপারগতার কারণে ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

দুই
মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখতে কষ্ট হলে, অনুরূপ গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি নিজের বা শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে রমজানে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে নিতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫, সুনানে তিরমিজি হাদিস : ৭১৫)

তিন
মাসিক ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসবকালীন স্রাবের সময় রোজা রাখা জায়েজ নেই। তবে ওই দিনগুলোর কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা আদায় করতে হবে না। রোজা রাখার পর দিনের বেলায় (ইফতারের সময় হওয়ার আগে পর্যন্ত) যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব শুরু হয়, তার রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করে দিতে হবে।

চার
যে নারী ঋতুস্রাবের কারণে রোজা রাখেননি, দিনের যে সময়ে তার স্রাবের সময় শেষ হবে, তখন থেকেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে রোজাদারের মতো দিনের অবশিষ্ট অংশ অতিবাহিত করবেন এবং পরে ওই দিনের রোজা কাজা করে নেবেন। (আল-লুবাব: ১ / ১৭৩)

যাদের কাজা আদায় করতে হবে না
নাবালেগ (শরিয়তের দৃষ্টিতে সাবালক হয়নি) বা শিশুদের রোজা রাখা ফরজ নয়, তবু তারা নিজেদের আগ্রহে ও বড়দের উৎসাহে রোজা রাখে। তারা যদি রোজা রেখে কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনোভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তাদের এই রোজার কাজা বা কাফফারা কোনোটিই লাগবে না। এরপরও যদি তারা বড়দের সাথে কাজা রোজা রাখতে শুরু করে এবং তা আবার ভেঙে ফেলে, তারও কাজা লাগবে না। (আল-হিদায়া)

রোজার কাফফারা আদায় করতে হবে যাদের
শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে তার জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়টিই আবশ্যক। তবে পানাহার ও সহবাস ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ইচ্ছাকৃত ভাঙলে কাফফারা দিতে হবে না, শুধু কাজা করতে হবে। (মাবসুতে সারাখসি: ৩ / ৭২)

কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
কাফফারা তিনভাবে আদায় করা যায়। প্রথমত, একজন দাস মুক্ত করা; দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা পালন করা এবং তৃতীয়ত, ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।

রোজার কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা আদায় করা। আর একটি কাজার বিপরীতে কাফফারা হলো ৬০টি রোজা অতিরিক্ত আদায় করা।

এভাবে অনুমোদিত কারণ ছাড়া যে কয়টি রোজা ভাঙবে, প্রতিটির পরিবর্তে একটি করে কাজা এবং তার সাথে যুক্ত হবে একটি কাফফারা (অর্থাৎ ৬০টি রোজা)।

একই রমজানে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক রোজা ভাঙলে এক কাফফারাই (৬০ রোজা) যথেষ্ট হবে। সে হিসাবে একটি রোজা যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভাঙলে তার জন্য কাজা ও কাফফারা হবে ৬১টি রোজা, দুটি ভাঙলে হবে ৬২টি রোজা, তিনটি ভাঙলে হবে ৬৩টি রোজা।

কাজা ও কাফফারাসহ মোট ৬১ বা তার বেশি হলে কমপক্ষে ৬১টি রোজা একটানা আদায় করতে হবে। এর মাঝে বিরতি হলে বা ভাঙলে আরেকটি কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৬১টি রোজা পূর্ণ হওয়ার আগে বিরতি হলে আবার নতুন করে এক থেকে শুরু করে ৬১টি পূর্ণ করতে হবে। তবে নারীরা ঋতু স্রাবের সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে পারবেন। এই রোজাগুলো নফল পরিগণিত হবে।

রোজার কাফফারা যদি কেউ ৬০টি রোজার মাধ্যমে আদায় করতে না পারেন, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খাওয়াবে। অথবা প্রতি মিসকিনকে এক ফিতরা পরিমাণ সম্পদ দেওয়ার মাধ্যমেও কাফফারা আদায় করা যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২ / ১০১, রদ্দুল মুহতার: ২ / ৪১৩)

৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খাবার খাওয়ানোর পরিবর্তে প্রত্যেককে এক ফিতরা পরিমাণ খাবার দেয়া যেতে পারে। একজন গরিবকে প্রতিদিন এক ফিতরা পরিমাণ করে ৬০ দিন দিলে বা খাবার খাওয়ালেও কাফফারা আদায় হবে। ৬০ দিনের ফিতরা পরিমাণ খাবার একবারে একজনকে দিলে কাফফারা আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১ / ৫১৩, রদ্দুল মুহতার ৩ / ৪৭৮)

বিডিসংবাদ/এএইচএস