ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

কারো গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না: যোগী সরকারের প্রতি হাইকোর্ট

  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০১৭
  • / 318
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে তিরস্কৃত হয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। শুক্রবার হাইকোর্ট বলেছে, আপনারা কারো গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না। আদালত আরো বলেছে, রাজ্যে যদি বৈধ কসাইখানা না থাকে তাহলে বৈধ কসাইখানা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। কসাইখানা তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের নয় বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সাফাই দেয়া হয়েছিল আদালত তা খারিজ করে দেয়।

হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ করে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কসাইখানার লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই ওই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

হাইকোর্ট নয়া লাইসেন্স ইস্যু এবং পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কসাইখানা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া আদালত সমস্ত গোশত ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ জেলা কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে।
কসাইখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার বসে আছেন গোশত ব্যবসায়ীরা

হাইকোর্ট কত জনকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে এবং কত জনের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে তা রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে আগামী ১৭ জুলাই জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কসাইখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার বসে আছেন গোশত ব্যবসায়ীরা

গোশত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো আবেদনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নবায়নের আবেদন জানানো সত্ত্বেও সরকার তা নবায়ন করেনি। তারা লাইসেন্স নবায়ন করার দাবি জানান।

 

উত্তর প্রদেশে বিজেপি’র ফায়ারব্র্যান্ড নেতা যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সেখানে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এরফলে কসাইখানার উপরে নির্ভরশীল বহু মানুষ রুটি-রুজি হারিয়ে গভীর সংকটে পড়েন। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, উত্তর প্রদেশে গোশত ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৩ কোটি ৫৬ হাজার লোক যুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। কসাইখানা বন্ধে সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি অবৈধ কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যোগী আদিত্যনাথ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কসাইখানা বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি মহিষের গোশতের দোকানেও হামলা চালায় বিজেপি-আরএসএস বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কারো গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না: যোগী সরকারের প্রতি হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে তিরস্কৃত হয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। শুক্রবার হাইকোর্ট বলেছে, আপনারা কারো গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না। আদালত আরো বলেছে, রাজ্যে যদি বৈধ কসাইখানা না থাকে তাহলে বৈধ কসাইখানা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। কসাইখানা তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের নয় বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সাফাই দেয়া হয়েছিল আদালত তা খারিজ করে দেয়।

হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ করে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কসাইখানার লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই ওই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

হাইকোর্ট নয়া লাইসেন্স ইস্যু এবং পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কসাইখানা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া আদালত সমস্ত গোশত ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ জেলা কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে।
কসাইখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার বসে আছেন গোশত ব্যবসায়ীরা

হাইকোর্ট কত জনকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে এবং কত জনের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে তা রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে আগামী ১৭ জুলাই জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কসাইখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার বসে আছেন গোশত ব্যবসায়ীরা

গোশত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো আবেদনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নবায়নের আবেদন জানানো সত্ত্বেও সরকার তা নবায়ন করেনি। তারা লাইসেন্স নবায়ন করার দাবি জানান।

 

উত্তর প্রদেশে বিজেপি’র ফায়ারব্র্যান্ড নেতা যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সেখানে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এরফলে কসাইখানার উপরে নির্ভরশীল বহু মানুষ রুটি-রুজি হারিয়ে গভীর সংকটে পড়েন। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, উত্তর প্রদেশে গোশত ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৩ কোটি ৫৬ হাজার লোক যুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। কসাইখানা বন্ধে সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি অবৈধ কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যোগী আদিত্যনাথ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কসাইখানা বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি মহিষের গোশতের দোকানেও হামলা চালায় বিজেপি-আরএসএস বাহিনী।