ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদি রুটে ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ২৩ হাজার যাত্রী ভাঙ্গুড়ায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরিজ ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ চরফ্যাশনে সারের সংকট, মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ কৃষকদের দেশের ২৯তম পররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী টানা দুইবার গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি শাহজালালে হারানো ব্যাগ উদ্ধার: ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের তৎপরতায় উপকৃত যাত্রীরা প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের পথে সার্বিয়ার শিক্ষার্থী জোট জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে ইরানের বিষয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প

খামারে বিক্রি না হলে হাটে পশু তুলবেন হবিগঞ্জের খামারিরা

  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 33
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

জেলার মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়ার পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্মের মালিক মুত্তাকিম চৌধুরী তার ফার্মে এবার ১১শ কেজি ওজনের একটি ষাড় দেশীয়ভাবে লালন পালন করেছেন।

ষাড়টি ফার্মেই বিক্রি না হলে কয়েক দিনের মধ্যে হাটে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ষাড়টির নাম রেখেছেন পুষ্পা। দাম হাকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা।

মোত্তাকিম চৌধুুরী বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে ৩ বছর ধরে ষাড়টি খামারে লালন পালন করছি। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিজেই এর যত্ন নিয়ে থাকি। নাম রেখেছি পুষ্পা। ওজন প্রায় ১১শ কেজি। খামারে যদি পুষ্পাকে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে হাটে তোলা হবে। আমরা পুষ্পার দাম চাই ১০ লাখ টাকা। তবে সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হলেই বিক্রি করে দেব।

শুধু পুষ্পা নয়, মোত্তাকিম চৌধুরীর খামারে ৩ শতাধিক পশু দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে।

২৫ জন শ্রমিক খামারে পশু পরিচর্যায় কাজ করছেন। তার খামারে ৯০টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট বড় ও মাঝারি আকারের পশু রয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকটি পশু তিনি খামারেই বিক্রি করেছেন। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা তার খামারে আসছেন।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৪৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

জেলার ১ হাজার ৪৪৪টি খামারে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।

দেশীয়ভাবে লালন-পালন করে পশু মোটাতাজা করছেন তারা। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুষিসহ দানাদার খাবার পরিবেশন করছেন।

উমেদ নগরের তুহিন মিয়া ও সাব্বির মিয়ার খামারেও কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে কয়েকদিনের মধ্যে এসব পশু হাটে তোলা হবে।

খামারি বিলাল মিয়া জানান, কোরবানির পশু পালন করে অনেকটাই লাভবান তারা। তবে হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর দাম কমে যায়। গো-খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় লোকসান গুনতে হয় তাদের। হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর দাবি জানান তারা।

উমেদনগরের খামারি তুহিন মিয়া বলেন, শাহিওয়াল ও নেপালিসহ বিভিন্ন জাতের ১৫টি পশু এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। হাটে বিক্রি করবো। পশু লালন-পালনে খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে।

সাব্বির মিয়া বলেন, গো-খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। খরচের তুলনায় তেমন লাভ হয় না। তবুও প্রতি বছর ১০/১২টি পশু বিক্রির চেষ্টা করি। এবারও খামার থেকে ৫/৬টি পশু বিক্রি করবো।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পশু বিক্রি করা যাবে। তবে কোরবানিকে সামনে রেখে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় পশু প্রবেশের শঙ্কা দেখা দেয়। এতে দেশীয় পশুর দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এ বছর চুনারুঘাটের সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসবে না। এ কারণে ভারতীয় পশু প্রবেশের সম্ভাবনা কম। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে বিজিবিকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

খামারে বিক্রি না হলে হাটে পশু তুলবেন হবিগঞ্জের খামারিরা

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

জেলার মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়ার পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্মের মালিক মুত্তাকিম চৌধুরী তার ফার্মে এবার ১১শ কেজি ওজনের একটি ষাড় দেশীয়ভাবে লালন পালন করেছেন।

ষাড়টি ফার্মেই বিক্রি না হলে কয়েক দিনের মধ্যে হাটে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ষাড়টির নাম রেখেছেন পুষ্পা। দাম হাকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা।

মোত্তাকিম চৌধুুরী বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে ৩ বছর ধরে ষাড়টি খামারে লালন পালন করছি। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিজেই এর যত্ন নিয়ে থাকি। নাম রেখেছি পুষ্পা। ওজন প্রায় ১১শ কেজি। খামারে যদি পুষ্পাকে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে হাটে তোলা হবে। আমরা পুষ্পার দাম চাই ১০ লাখ টাকা। তবে সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হলেই বিক্রি করে দেব।

শুধু পুষ্পা নয়, মোত্তাকিম চৌধুরীর খামারে ৩ শতাধিক পশু দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে।

২৫ জন শ্রমিক খামারে পশু পরিচর্যায় কাজ করছেন। তার খামারে ৯০টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট বড় ও মাঝারি আকারের পশু রয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকটি পশু তিনি খামারেই বিক্রি করেছেন। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা তার খামারে আসছেন।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৪৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

জেলার ১ হাজার ৪৪৪টি খামারে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।

দেশীয়ভাবে লালন-পালন করে পশু মোটাতাজা করছেন তারা। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুষিসহ দানাদার খাবার পরিবেশন করছেন।

উমেদ নগরের তুহিন মিয়া ও সাব্বির মিয়ার খামারেও কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে কয়েকদিনের মধ্যে এসব পশু হাটে তোলা হবে।

খামারি বিলাল মিয়া জানান, কোরবানির পশু পালন করে অনেকটাই লাভবান তারা। তবে হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর দাম কমে যায়। গো-খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় লোকসান গুনতে হয় তাদের। হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর দাবি জানান তারা।

উমেদনগরের খামারি তুহিন মিয়া বলেন, শাহিওয়াল ও নেপালিসহ বিভিন্ন জাতের ১৫টি পশু এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। হাটে বিক্রি করবো। পশু লালন-পালনে খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে।

সাব্বির মিয়া বলেন, গো-খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। খরচের তুলনায় তেমন লাভ হয় না। তবুও প্রতি বছর ১০/১২টি পশু বিক্রির চেষ্টা করি। এবারও খামার থেকে ৫/৬টি পশু বিক্রি করবো।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পশু বিক্রি করা যাবে। তবে কোরবানিকে সামনে রেখে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় পশু প্রবেশের শঙ্কা দেখা দেয়। এতে দেশীয় পশুর দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এ বছর চুনারুঘাটের সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসবে না। এ কারণে ভারতীয় পশু প্রবেশের সম্ভাবনা কম। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে বিজিবিকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস