ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’: চেন্নাইয়ে ১১ ফ্লাইট বাতিল, জারি সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
বঙ্গোপসাগরে দানা বাঁধা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, সোমবার (২ নভেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে এটি উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে এটি নেল্লোর থেকে ১৬০ কিলোমিটার এবং চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়ায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়টি নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং কাভালি থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে ছিল এর অবস্থান। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্ধ্র প্রদেশ।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে। চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে চেন্নাই থেকে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাদাপা এবং তিরুচিরাপল্লি রুটের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের তামিলনাড়ুর উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চেন্নাইয়ের মাধাভারামে ১১ সেন্টিমিটার, নুঙ্গামবাক্কাম ও এনোর বন্দরে ১০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে চেন্নাই, চেঙ্গালপাট্টু ও তিরুভাল্লুর জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চেন্নাইয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং দুই জেলার সকল স্কুল-কলেজ সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া এনোর বন্দর ও নুঙ্গামবাক্কামে ১০ সেন্টিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর পাশাপাশি তেলেঙ্গানার ছয়টি জেলায় কমলা এবং পাঁচটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ না কাটতেই মুরাসুর আগমনে উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বজায় রেখেছে।























