ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

চট্টগ্রামে ওসি মঈনুলের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
  • / 329
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের খুলশী থানার সাবেক ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় একটি হোটেলে গিয়ে রুম বয় ও এসআইকে মারধরের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের তদস্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৪ জুলাই রাতে মদ্যপ অবস্থায় নগরীর আগ্রাবাদে হোটেল সেন্ট মার্টিনের রুম বয় এবং ডবলমুরিং থানার এক এসআইকে মারধরের ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল।
কমিটি তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেয়।

ইকবাল বাহার বলেন, “তার (মাইনুল) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অনেকগুলো প্রমাণিত। যতটুকু অপরাধ তিনি করেছেন, ততটুকু শাস্তি যেন উনি পান সেজন্য আমি পুলিশ হেড কোয়াটার্সকে জানাব।”

আগামী রোববার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তর প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইজিপির নির্দেশে একজন অতিরিক্ত আইজিপি বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করবেন এবং কি কি শাস্তি উনি পেতে পারেন তা উল্লেখ করে নোটিস দেবেন।

“শো-কজের বক্তব্যে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে তা আমলে নেওয়া হবে, অন্যথায় বিভাগীয় মামলা হবে। যার প্রেক্ষিতে লঘুদন্ড ও গুরুদন্ড দেয়া হবে,” বলেন কমিশনার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত পরিদর্শক মাইনুল গত ৩ জুলাই গভীর রাতে সাদা পোশাকে আগ্রাবাদে হোটেল সেন্ট মার্টিনে গিয়েছিলেন। রুম বয় তার চাওয়া অনুযায়ী ব্রান্ডের মদ দিতে না পারায় তাকে মারধর করেছিলেন তিনি। হোটেলের এক নিরাপত্তাকর্মীও তার প্রহারের শিকার হয়েছিলেন।
“রাত দেড়টায় ওই ঘটনা ঘটিয়ে ফিরে আসার পর মাইনুল পুনরায় গাড়িতে করে ওই হোটেলে গিয়ে ‘মোবাইল ডিউটি’তে থাকা ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকেও মারধর করেন।”

এসআই সৈয়দ অভিযোগ করার পর কয়েকজন কর্মকর্তা হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
জানা যায়, তদন্ত কমিটি হোটেলের বয়সহ ১৩ জন ও দায়িত্বরত ১০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়ারও বক্তব্য শুনেছে।
১৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সঙ্গে সবার বক্তব্যও যুক্ত করে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

২০১৩ সাল থেকে দেড় বছরের বেশি সময় খুলশী থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন মাইনুল। ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আমবাগান এলাকায় একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাইনুলকে ওই থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
ওই সময় তাকে গোয়েন্দা পুলিশে বদলি করা হলেও নির্বাচনের পর সদরঘাট থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৯ মার্চ সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় একটি আবাসিক হোটেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে স্বস্ত্রীক আটকে রেখে মারধরের ঘটনায় মাইনুলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে ওসি মঈনুলের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের খুলশী থানার সাবেক ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় একটি হোটেলে গিয়ে রুম বয় ও এসআইকে মারধরের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের তদস্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৪ জুলাই রাতে মদ্যপ অবস্থায় নগরীর আগ্রাবাদে হোটেল সেন্ট মার্টিনের রুম বয় এবং ডবলমুরিং থানার এক এসআইকে মারধরের ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল।
কমিটি তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেয়।

ইকবাল বাহার বলেন, “তার (মাইনুল) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অনেকগুলো প্রমাণিত। যতটুকু অপরাধ তিনি করেছেন, ততটুকু শাস্তি যেন উনি পান সেজন্য আমি পুলিশ হেড কোয়াটার্সকে জানাব।”

আগামী রোববার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তর প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইজিপির নির্দেশে একজন অতিরিক্ত আইজিপি বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করবেন এবং কি কি শাস্তি উনি পেতে পারেন তা উল্লেখ করে নোটিস দেবেন।

“শো-কজের বক্তব্যে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে তা আমলে নেওয়া হবে, অন্যথায় বিভাগীয় মামলা হবে। যার প্রেক্ষিতে লঘুদন্ড ও গুরুদন্ড দেয়া হবে,” বলেন কমিশনার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত পরিদর্শক মাইনুল গত ৩ জুলাই গভীর রাতে সাদা পোশাকে আগ্রাবাদে হোটেল সেন্ট মার্টিনে গিয়েছিলেন। রুম বয় তার চাওয়া অনুযায়ী ব্রান্ডের মদ দিতে না পারায় তাকে মারধর করেছিলেন তিনি। হোটেলের এক নিরাপত্তাকর্মীও তার প্রহারের শিকার হয়েছিলেন।
“রাত দেড়টায় ওই ঘটনা ঘটিয়ে ফিরে আসার পর মাইনুল পুনরায় গাড়িতে করে ওই হোটেলে গিয়ে ‘মোবাইল ডিউটি’তে থাকা ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকেও মারধর করেন।”

এসআই সৈয়দ অভিযোগ করার পর কয়েকজন কর্মকর্তা হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
জানা যায়, তদন্ত কমিটি হোটেলের বয়সহ ১৩ জন ও দায়িত্বরত ১০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়ারও বক্তব্য শুনেছে।
১৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সঙ্গে সবার বক্তব্যও যুক্ত করে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

২০১৩ সাল থেকে দেড় বছরের বেশি সময় খুলশী থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন মাইনুল। ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আমবাগান এলাকায় একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাইনুলকে ওই থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
ওই সময় তাকে গোয়েন্দা পুলিশে বদলি করা হলেও নির্বাচনের পর সদরঘাট থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৯ মার্চ সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় একটি আবাসিক হোটেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে স্বস্ত্রীক আটকে রেখে মারধরের ঘটনায় মাইনুলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।