চাটমোহরে জমি দখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
পাবনার চাটমোহরে প্রায় ১৮ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহাম্মদ আলী নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে চাটমোহর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী জানান, দক্ষিণ শিবরামপুর মৌজার ৩২৩ নম্বর খতিয়ানের ৫৪০ নম্বর দাগে তাঁর ১৭.৯৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তাঁর দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে তিনি গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের কথা উল্লেখ করেন, যখন কয়েক ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি ফিরোজুর রহমান (বাবলু) ও আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ ১৭.৯৭ শতাংশ। জমিটি চাটমোহর উপজেলার দক্ষিণ শিবরামপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর ৩২৩ এবং দাগ নম্বর ৫৪০-এ অবস্থিত।
মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তিনি চাটমোহর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তখন এএসআই আল আমিনের পরামর্শে থানায় যোগাযোগ করলেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি। এছাড়া গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফিরোজুর রহমান বাবলুর বড় ছেলে জোরপূর্বক জমিতে চাষাবাদের জন্য গোবর সার প্রয়োগ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তার মীমাংসা হতে হবে আদালতের মাধ্যমে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পরে এএসআই আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে থানায় যেতে বলা হয়।
তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অভিযুক্ত ফিরোজুর রহমান বাবলু। তিনি দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত পুরোনো সমস্যার সমাধান আগেই হয়েছে এবং তাদের বাড়ি তৈরির জায়গা আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্টো মোহাম্মদ আলীর পরিবারের বিরুদ্ধেই তার ছেলেদের মারধর করে আহত করার অভিযোগ এনেছেন তিনি। এ ব্যাপারে ফিরোজুর রহমান বাবলু জানান, অনেক আগেই জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, ইতিপূর্বে তাদের বাড়ি করার জায়গা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আমরা রাস্তার পাশে এই জায়গা ভোগ দখল করছি। মোহাম্মদ আলীদের মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, তারা আমার ছেলেদের মারপিট করে রক্তাক্ত করেছে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান জানিয়েছেন, জমিজমার বিষয়টি মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির, যা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো ফৌজদারি অপরাধ জড়িত থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
























